নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আড়াই লক্ষ টাকার দামি বাইক কেনার এক সপ্তাহের মধ্যেই পথ দুর্ঘটনায় নন্দীগ্রামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর সঙ্গী। মৃতের নাম রঞ্জিত মণ্ডল (২১)। বাড়ি নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের সাঁইবাড়ি গ্রামে। জখম যুবক বুদ্ধদেব বেরা তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি। তাঁর বাড়ি ওই ব্লকের মনোহরপুর গ্রামে। ৩০ জানুয়ারি চণ্ডীপুর থানার অন্তর্গত হাঁসচড়া ও ফুলনি মোড়ের মাঝামাঝি জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটে। ৩১ তারিখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রঞ্জিতের মৃত্যু হয়। শনিবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়। তরতাজা ছেলের মৃত্যুতে বাবা-মা শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন।
Advertisement
জানা গিয়েছে, রঞ্জিত সোনার কারিগর ছিলেন। তিনি কলকাতায় কাজ করতেন। বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। বাবা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল নিজে বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন। মা রেবতীদেবী গৃহবধূ। দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। রঞ্জিত কাজ করে তিন লক্ষ টাকা জমিয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে জমি কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। কিন্তু তা না করে তিনি আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে বাইক কেনেন। ২৪জানুয়ারি চণ্ডীপুরে একটি শোরুম থেকে ওই বাইক কেনা হয়। বৃহস্পতিবার রঞ্জিত মামার বাড়ি মনোহরপুর গ্রামে যান। সেখানে বন্ধু বুদ্ধদেব বেরাকে সঙ্গে নিয়ে বাইকের কিছু কাগজপত্র আনতে চণ্ডীপুরে শোরুমে রওনা দিয়েছিলেন। বুদ্ধদেব বাইক চালাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে থাকা বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে কংক্রিটের খুঁটিতে ধাক্কা মারেন। দু’জনেই অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তায় ছিটকে পড়েন। চণ্ডীপুর থানার পুলিস উদ্ধার করে এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে দু’জনকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই রঞ্জিত মারা যান।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী চলা ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি শুক্রবারই শেষ হল। যুব সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো নিয়ে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অনেকেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাস্তায় উদ্দাম গতিতে বাইক চালায়। তাতে লাগাম টানতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই জেলায় প্রতি মাসে গড়ে দুর্ঘটনায় ৩০-৪০ জনের প্রাণহানি হয়। কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় তা নিয়ে নানাভাবে চেষ্টা করছে পুলিস ও প্রশাসন।
সাঁইবাড়ি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যা সুদীপা বেরা জানা বলেন, রবীন্দ্রনাথবাবু খুব গরিব। ছেলে সদ্য উপায় করতে শুরু করেছিল। সোনার কারিগরের কাজ শেখার পর কিছু দিন বাইরে ছিল। উপার্জনের টাকায় শখের একটা বাইক কিনেছিল। সেই বাইক কেনার এক সপ্তাহের মধ্যে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তরতাজা যুবকের মৃত্যু হল। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। মৃত যুবকের জেঠু বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, এভাবে দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারিনি। এই দুর্ঘটনায় গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী চলা ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি শুক্রবারই শেষ হল। যুব সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো নিয়ে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অনেকেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাস্তায় উদ্দাম গতিতে বাইক চালায়। তাতে লাগাম টানতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়ানক হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই জেলায় প্রতি মাসে গড়ে দুর্ঘটনায় ৩০-৪০ জনের প্রাণহানি হয়। কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় তা নিয়ে নানাভাবে চেষ্টা করছে পুলিস ও প্রশাসন।
সাঁইবাড়ি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যা সুদীপা বেরা জানা বলেন, রবীন্দ্রনাথবাবু খুব গরিব। ছেলে সদ্য উপায় করতে শুরু করেছিল। সোনার কারিগরের কাজ শেখার পর কিছু দিন বাইরে ছিল। উপার্জনের টাকায় শখের একটা বাইক কিনেছিল। সেই বাইক কেনার এক সপ্তাহের মধ্যে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তরতাজা যুবকের মৃত্যু হল। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। মৃত যুবকের জেঠু বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, এভাবে দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারিনি। এই দুর্ঘটনায় গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে।



