নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ: ভিনজেলার ‘ভুয়ো’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও ঢুকেছে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা। উপভোক্তাদের পরিচয়পত্রের যাবতীয় তথ্য ব্যবহার করে হাতানো হয়েছে সরকারি প্রকল্পের টাকা। কালীগঞ্জ ব্লকের রূপশ্রী প্রকল্পের জালিয়াতি কাণ্ডে সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লক সংলগ্ন মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় সেই সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস পেয়েছে প্রশাসন। ব্লক প্রশাসনের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই মোটা অঙ্কের টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তার পরিমাণ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। যা রাজ্যের কোষাগারে ফিরিয়ে দিয়েছে কালীগঞ্জ ব্লক প্রশাসন। দেখা গিয়েছে, বহু উপভোক্তা একাধিকবার রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পেয়েছে। কখনও উপভোক্তার একটি অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকবার টাকা ঢুকেছে। আবার একই উপভোক্তার একাধিক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে রূপশ্রীর টাকা ঢোকার ঘটনাও ঘটেছে।
কালীগঞ্জ ব্লকের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যেই হেয়ারিং করে বহু উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে। তা রাজ্যের কোষাগারে জমাও পড়েছে। তবে ভিনজেলার কিছু অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেগুলি নিয়েও আমরা চিঠি করে ব্যবস্থা নেব।
গত বছর নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লকে রূপশ্রী প্রকল্পে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। মূলত ২০১৯-’২০ সালে এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছে। দেখা যায়, সেই সময় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় রূপশ্রীর টাকা ঢুকেছে। এমনকী, একই ব্যক্তির ভিন্ন অ্যাকাউন্টে চারবার টাকা ঢোকার ঘটনাও ঘটে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তা ধরা পড়ে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ ব্লকে একাধিকবার রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা নিয়েছে এরকম উপভোক্তার সংখ্যা ৬৭জন। সেইমতো ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা ধরে উপভোক্তাদের নোটিস পাঠানো হয়। তাদের একাধিকবার পাওয়া রূপশ্রীর টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ৪৩জন অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের কোষাগারে ঢুকেছে ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। তবে তাদের মধ্যে অনেক উপভোক্তা জানেই না যে তাদের অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪জন উপভোক্তার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেইমতো, যে অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে, তার হোল্ডারের পরিচয়পত্র জানার জন্য ব্যাঙ্কের কাছে আবেদন করা হয়। সম্প্রতি অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের পরিচয় জানতে পারে প্রশাসন।
দেখা যায়, সেই অ্যাকাউন্টগুলি মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনুমান, কিছু অসাধু চক্র বিভিন্ন উপভোক্তার নাম ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করে।