নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বেসরকারি তো বটেই সরকারি ব্যাংকিং সেক্টরও কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছর প্রায় শেষের পথে। দেখা গিয়েছে প্রথম ত্রৈমাসিক থেকে তৃতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত সময়সীমায় লাগাতার নিয়োগের হার হ্রাসের প্রবণতা বেড়েছে। দিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সংক্রান্ত যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানে বারংবার বরাভয় দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে যে, এআই যতটা কর্মসংস্থানের ক্ষতি করবে, তার তুলনায় নতুন নতুন সুযোগও বাড়বে। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টেই বলা হয়েছে, সরকারি ব্যাংকে কর্মী সংখ্যা বস্তুত কমে গিয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী সংস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নতুন কর্মী নিয়োগের হার কমে গিয়েছে উভয় ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালে ব্যাংক কর্মীর সংখ্যা ছিল ১৭ ঽক্ষ ৮৭ হাজার। সেটা ২০২৫ সালে হয়েছে ১৮ লক্ষ ৮ হাজার।এই সময়ে মাত্র ৪ হাজার কর্মী সংখ্যা বেড়েছে স্টেট ব্যাংকে। ছিল ২ লক্ষ ৩২ হাজার। হয়েছে ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার।
চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি ও সরকারি উভয় ব্যাঙ্কিং সেক্টরেই এআই ও অটোমেশনের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। কিন্তু কর্মী নিয়োগ কমেছে। কিছু ব্যাংকে কর্মী নিয়োগের হার কমেছে। তবে নতুন নিয়োগের ফলে বেড়েছে কর্মীর সংখ্যা। কিন্তু কিছু ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা কমেই গিয়েছে। ব্যাংকিং সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই কর্মী নিয়োগ কম হওয়ার কারণ অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রধান লক্ষ্য হল ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান। সেটা দেশের সর্বত্র আদৌ কাজ করুক না করুক, অন্তত কাগজে কলমে ডিজিটাল ব্যাংকিং দেখানোর প্রবণতা প্রবল আকার নিয়েছে।আর তাই গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংক কর্মীদের প্রত্যক্ষ সংযোগ কমছে প্রতিনিয়ত। সুতরাং আগামীদিনে এআই যে সিংহভাগ কাজ করে দেবে বলে একটি প্রচার শুরু হয়েছে, তার সবথেকে বড় সমর্থক হতে চলেছে ব্যাংকিং সেক্টর।



