Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এআইয়ে বাঘের ভিডিও বানিয়ে ‘পাঠ’! আতঙ্কে পড়ুয়াদের স্কুলেই পাঠালেন না অভিভাবকরা

সুন্দরবন লাগোয়া অঞ্চলে মাঝেমধ্যে বাঘের দেখা মেলে। কিন্তু তা বলে সুন্দরবনের অত দূরে, জনবসতিপূর্ণ দত্তপুকুরে বাঘ!

এআইয়ে বাঘের ভিডিও বানিয়ে ‘পাঠ’! আতঙ্কে পড়ুয়াদের স্কুলেই পাঠালেন না অভিভাবকরা
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সুন্দরবন লাগোয়া অঞ্চলে মাঝেমধ্যে বাঘের দেখা মেলে। কিন্তু তা বলে সুন্দরবনের অত দূরে, জনবসতিপূর্ণ দত্তপুকুরে বাঘ! 

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে কদম্বগাছির উলা কালসারা কাদরিয়া হাই মাদ্রাসার ভিতর তিনটি হলুদ-কালো ডোরাকাটা ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ ঘোরাঘুরি করছে। কখনও এ বারান্দা থেকে ও বারান্দায় লাফ দিচ্ছে। কখনও ফাঁকা জায়গায় দাপাচ্ছে। সঙ্গে কান ফাটানো গর্জন। ঘটনাটির ভিডিও তৈরি হয়। তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরালও হয়ে পড়ে। একটি শহরাঞ্চলের শিক্ষাঙ্গনে কি ভাবে তিন-তিনটি বাঘ ঢুকল? এ নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় অভিভাবকদের মধ্যে। আতঙ্ক ছড়ায়। মোবাইলে বাঘের দাপাদাপি দেখতে পায় পড়ুয়ারাও। আর দেখার পর রীতিমতো সিঁটিয়ে গিয়ে ভয়ে মাদ্রাসায় যেতেই চাইছে না। 
এই ভাইরাল ভিডিও রহস্য পরে উদঘাটন হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাঘগুলির হাঁড়ির খবর। জানা যায় এই বাঘ আসল নয়। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও। সেটি তৈরি করেছেন কাদরিয়া হাই মাদ্রাসারই ভূগোল শিক্ষক মহম্মদ ইয়ামিন মল্লিক। তবে ওঁর উদ্দেশ্য ছিল সৎ। তিনি পড়ুয়াদের সচেতন করতে ভিডিওটি বানিয়েছেন। কিন্তু তা ঘিরে চরম বিভ্রান্তি। ব্যাপক বিপত্তি।
অনেকের বক্তব্য, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এ আই) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের কাজ হচ্ছে। এর অনেক ইতিবাদক দিক রয়েছে। নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। তার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল দত্তপুকুরে। মাদ্রাসাকে বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র তৈরি করে বিপত্তি বাধিয়েছেন শিক্ষক নিজেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর তৈরি ভিডিও ভাইরাল। আর তারপরই স্কুল বিমুখ পড়ুয়ারা। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক ইয়ামিন মল্লিকের বক্তব্য, ‘এআই ভিডিও সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতেই এটা করেছি। কিন্তু নেতিবাচক প্রভাব পড়ার জন্য দুঃখিত।’
অন্যদিকে অভিভাবক সিরাজ সেখ, রহুল মিদ্দারা বলেন, ‘প্রথমে ভিডিও দেখে তো আমরাই ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলাম। অনেক বাচ্চাই মাদ্রাসায় পড়তে যেতে চাইছে না। তবে আসল কারণ জানার পর ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।’ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুল মল্লিক বলেন, ‘ভিডিওটি এই প্রতিষ্ঠানেরই ভূগোলের সহ শিক্ষক মহম্মদ ইয়ামিন মল্লিক তৈরি করেছেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ফোন আসার পর ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি যাতে এই ধরনের কাজ না করেন তার জন্য সতর্কও করা হয়েছে। পড়ুয়াদের আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।’ ইয়ামিন মল্লিক বলেন, ‘এখন এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে তা আসল বলে বিশ্বাস করে নিচ্ছেন। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাঁদের মনে। পাঠ্যবই থেকে বেরিয়ে তাঁদের সচেতন করতেই আমি এটি করেছি। কিন্তু সচেতন করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটায় আমি দুঃখিত। আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিডিও মুছে দিয়েছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ