সদ্য কলকাতায় এসেছিলেন অভিনেত্রী জয়া প্রদা। রাজনীতি থেকে অভিনয় জীবন নিয়ে নানা কথা উঠে এল সাক্ষাৎকারে।
সদ্য কলকাতায় এসেছিলেন অভিনেত্রী জয়া প্রদা। রাজনীতি থেকে অভিনয় জীবন নিয়ে নানা কথা উঠে এল সাক্ষাৎকারে।
মানুষের সেবা করব বলে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ছিলাম। টানা ১৬ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। অনেক কিছু দেখলাম, শিখলাম। বুঝলাম আমার মতো আবেগপ্রবণ মানুষদের জায়গা রাজনীতিতে নয়। ঠিক করলাম সিনেমাটাই মন দিয়ে করব।
• রাজনীতিকে পুরোপুরি বিদায় জানিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন?
•• একপ্রকার তাই। মানুষের সেবা করব বলে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ছিলাম। টানা ১৬ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। অনেক কিছু দেখলাম, শিখলাম। বুঝলাম আমার মতো আবেগপ্রবণ মানুষদের জায়গা রাজনীতিতে নয়। তাই ঠিক করলাম সিনেমাটাই মন দিয়ে করব।
• আজকের বাংলা ছবি দেখেন?
•• বাংলা ভাষার মধ্যে একটা সুগন্ধ রয়েছে, মিষ্টতা রয়েছে। বরাবরই আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলা ছবির একটা আলাদা কদর ছিল। এখনও আছে। বাংলার যে ছবিগুলো জাতীয় পুরস্কার পায়, সেগুলি মন দিয়ে দেখি। এখানকার গল্প বলার ধরন আমার বেশ লাগে। সবচেয়ে বড়ো কথা বাংলার দর্শক খুব সমঝদার।
• দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে অতিবাহিত করলেন, অভিনেত্রী হিসেবে আফসোস হয় না?
•• আপশোসের কথাই নয়। দেখুন, সমাজ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বদলে আমি কি দিচ্ছি সমাজকে? মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে গেলে রাজনীতি একটা প্ল্যাটফর্ম। ১৬ বছর রাজ্যসভা ও লোকসভা মারফত মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছিলাম বলেই এখন যখন সিনেমায় ফিরলাম, আগের মতোই ভালোবাসা, সম্মান পাচ্ছি।
• এখন কী কাজ করছেন?
•• দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে ‘ফৌজি’ নামে একটা ছবি শেষ করলাম। একটা ওয়েবসিরিজ করেছি। আর সঙ্গে একটা বাংলা ছবি করছি।
• এত বছর পর ছবির জগতে ফিরে কোন পরিবর্তনগুলি আপনার বেশি চোখে পড়ল?
•• আগে ছবিতে গানের সংখ্যা বেশি থাকত। লতা, কিশোর, আশাজিদের যে গান থাকত, আজও মানুষ সেগুলি মনে রেখেছে। এখনকার ছবিতে গান রয়েছে, তবে তখনকার মতো মেলোডি নেই। দ্বিতীয়ত প্রযুক্তিগত বিস্তর বদল এসেছে। সেটাই স্বাভাবিক। এখন এআই-এর যুগ। প্রযুক্তি দিয়ে সিনেমার গড়নে নানা পরীক্ষা, নিরীক্ষা হচ্ছে।
• কী বুঝছেন, এআই সিনেমা শিল্পে আশীর্বাদ না অভিশাপ?
•• সেটা সময় বলবে। তবে এআই কখনো একজন অভিনেতার আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।
• দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতেই আপনার আত্মপ্রকাশ। আজ বলিউডকে নিয়ন্ত্রণ করছে দক্ষিণ ভারতীয় ছবি। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
•• আমি ফৌজি নামে ছবিটা করলাম, সেটা আসলে দক্ষিণী ছবি হলেও প্যান ইন্ডিয়ান ফিল্ম। দক্ষিণী ছবি এমন সমাজ বা মানুষের কথা বলছে, সেটা সারা ভারতবর্ষের মন স্পর্শ করছে। এই রকম ছবির, বিষয়ের চাহিদা বাড়ছে। ব্যবসাও বাড়ছে। দশ বছর আগে যা হত, এখনও তাই-ই হবে, সেটা তো হয় না। পরিবর্তন আসবেই। এখন প্যান ইন্ডিয়ান ছবির যুগ। বলিউডে দক্ষিণ ভারতীয় ছবির প্রভাব তখনও ছিল, এখনও আছে।
• সত্যজিৎ রায় আপনার সম্বন্ধে বলেছিলেন, ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে সুন্দর মুখ...
•• (হাসি) আমার জীবনে সবচেয়ে বড়ো সৌভাগ্য। গর্বের বিষয়। সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের কাছ থেকে এত বড়ো কমপ্লিমেন্ট মনে হয় আর কেউ পাননি। ওঁর প্রশংসার পরেই মানুষ আমাকে সুন্দরী বলে মান্যতা দিতে শুরু করেন। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বলেছিলেন ওঁর ছবিতে নেবেন। আমার দুর্ভাগ্য সেই সুযোগ আর এলো না।
প্রিয়ব্রত দত্ত