শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ট্রাফিক সিগন্যাল বা লেন ভাঙলে এবার ধরে দেবে এআই ক্যামেরা। জানিয়ে দেবে গাড়ির চালক সিটবেল্ট পরেছেন কি না। বেপরোয়া গতি থাকলে তাও ফাঁকি দেওয়া যাবে না। জাতীয় সড়কসহ রাজ্যের মধ্যে থাকা সমস্ত রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশের ধাঁচে আসতে চলেছে এআই ক্যামেরা। নিয়ম ভাঙা গাড়ির মালিকের কাছে মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে যাবে জরিমানার রসিদ। গোটা দেশজুড়েই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে উদ্যোগী হয়েছে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের সমস্ত রাজ্যকে এই প্রকল্প চালু করার জন্য পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য করবে নয়াদিল্লি।
বিভিন্ন জাতীয় সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। আগামী দিনে ন্যাশলান হাইওয়েতে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে চাইছে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। সেই কারণে নজরদারির উপর জোর দিতে চাইছে। এতদিন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়কে ক্যামেরার মাধ্যমে ম্যানুয়ালি নজরদারি চালানো হত। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশকর্মীর প্রয়োজন হয়। তাঁদের দিয়ে অন্যকোনও ডিউটি করানো যায় না। ওইসঙ্গে প্রতিটি রাজ্যেই ফোর্সের ঘাটতি রয়েছে। দিল্লি চাইছে গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থাকে এআই নির্ভর করতে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে এই সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বেশ কয়েকটি রাজ্যে তা চালু হয়েছে। এআই পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোথায় কতটা খামতি রয়েছে, সেগুলি বের করা হবে। তারপর সমস্ত রাজ্যে পাকাপাকিভাবে চালু করা হবে এই ব্যবস্থা।
কী ধরনের কাজ করবে এআই ক্যামেরা? পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সমস্ত ন্যাশনাল হাইওয়েতে এই ক্যামেরা লাগানো থাকবে। একইসঙ্গে যে-সমস্ত সড়ক রাজ্য দেখভাল করে এবং সেগুলির সঙ্গে বিভিন্ন জেলার রাস্তাও এআই কভারেজের মধ্যে আসবে। ট্রাফিক দপ্তরের কর্তার কথায়, সাইটেশন পদ্ধতিতে ফাইন করার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ভুল হয়। আবার চালু কিছু ক্যামেরার প্রযুক্তি সেকেলে হওয়ায় গাড়ির গতি কত ছিল বা কীভাবে গাড়িটি লেন ভাঙল, তা ধরা পড়ে না। এআই ক্যামেরা সেই কাজগুলি করবে। সমস্ত কাজটি নিখুঁতভাবে করা যাবে। একজনের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপবে না। এতে, অপরাধ করে কোনও গাড়ি পালিয়ে গেলে সহজেই ধরা পড়ে যাবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনভঙ্গকারী গাড়ির মালিককে সরাসরি জরিমানার অঙ্ক পাঠিয়ে দেওয়া যাবে। তবে এই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসাতে এক একটি রাজ্যে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিভিন্ন রাজ্যকে এই খরচের সিংহভাগটাই দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকেও বহন করতে হবে কিছুটা আর্থিক ব্যয়ভার। এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নেই উদ্যোগী সরকার।