আমেদাবাদ: বেঁচে আছি। এটুকুই সবাই জানে। কিন্তু কীভাবে আছি, সেটা কেউ জানে না। ঘুম আসে না। একা বাড়ির বাইরে বেরোতে পারি না। যে সমস্যার মধ্যে রয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
আমেদাবাদ: বেঁচে আছি। এটুকুই সবাই জানে। কিন্তু কীভাবে আছি, সেটা কেউ জানে না। ঘুম আসে না। একা বাড়ির বাইরে বেরোতে পারি না। যে সমস্যার মধ্যে রয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
গত একবছর ধরে প্রায় রোজ এসব আউড়েছেন আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী, বিশ্বাস কুমার রমেশ। এতটুকু ফিকে হয়নি আতঙ্কের স্মৃতি। বেঁচে থাকাটাই তাঁর কাছে নরকযন্ত্রণার সমান। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ভিনদেশে থাকেন। তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য চেষ্টার খামতি রাখেনি পরিবারের সদস্যরা। সেকথা স্বীকার করলেও, রমেশ বিশ্বাস করেন তাঁর জীবন আর স্বাভাবিক হবে না কখনও।
গত ১২ জুন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে টেক অফের অল্প সময়ের মধ্যে আমেদাবাদের মেঘানিনগরে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। মৃত্যু হয় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের। মেঘানিনগের যেখানে বিমানটি ভেঙে পড়েছিল সেই বি জে মেডিকেলের হস্টেলেও মৃত্যু হয় অনেকের। শুক্রবার এই দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। সেখানে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা ছবি-ফুল দিয়ে প্রিয়জনদের শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। এদিন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঘটনাস্থলে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার লিন্ডি ক্যামারুন। এদিকে দুর্ঘটনার এক বছর পরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এই পরিবারগুলির মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে। বর্তমানে এই দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে, এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। সংস্থার তরফে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করলেও দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। যদিও শুক্রবার তারা জানিয়েছে, তদন্তের তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তাতে অবশ্য ক্ষোভ কমছে না নিহতদের পরিজনদের। দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ রেখেছে বলেই দাবি টাটা গোষ্ঠীর। সংস্থার দাবি, নিহতদের ৯১ শতাংশ পরিবারের হাতে ইতিমধ্যেই এক কোটি টাকা করে অনুদান তুলে দেওয়া হয়েছে।