সংবাদদাতা, বোলপুর: ট্রায়াল রানই সার। এখনও আহমদপুর-কাটোয়া শাখায় হাওড়া ও শিয়ালদহ যাওয়ার ট্রেন চলাচল শুরু হল না। দ্রুত ট্রেন চালানোর দাবিতে সরব হন আহমদপুর-কাটোয়া যাত্রী সংগঠন। কীর্ণাহার স্টেশনে স্মারকলিপিও দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, করোনা পর্বের পর থেকে লাগাতার এনিয়ে আন্দোলন, অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর উদ্দেশে আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে। এখনও কলকাতাগামী ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। ফলে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কলকাতা যাতায়াত করতে গেলে আহমদপুর, বোলপুর ও কাটোয়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও তাঁরা দিয়েছেন।
Advertisement
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত ছোট লাইনের ট্রেনের অনেক ইতিহাস রয়েছে। ১৯১৭সাল থেকে আহমদপুর থেকে কাটোয়া শাখায় ন্যারোগেজ চালু ছিল। মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে এই শাখায়। তারমধ্যে আহমদপুর, লাভপুর, কীর্ণাহার, দাসকলগ্রাম, পাঁচুন্দি, কাটোয়া অন্যতম। একাধিক ট্রেন নিয়মিত চলার পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ পরিষেবাও পেয়েছে। এছাড়া তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বও এই শাখাব ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। একসময় চার- পাঁচ কামরার ট্রেন যাতায়াত করত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ, গতি সহ নানাবিধ কারণে বন্ধ হয়ে যায় ন্যারোগেজ। পরে ২০১২সালে পূর্বরেল কর্তৃপক্ষ ৪১০কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রডগেজের সূচনা করে। রেলপথের আধুনিকীকরণের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে বলে আশায় ছিলেন। কিন্তু তা তো হয়নি, বরং দিন দিন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। এখন আহমদপুর ও কাটোয়ার মধ্যে দু’টি ট্রেন চলাচল করে। ৫১ কিলোমিটারের এই রুটে রয়েছে ফুল্লরাতলা, অট্টহাসের মতো সতীপীঠ। এছাড়া এই শাখার ট্রেনে নলাটেশ্বেরী, সাঁইথিয়ার নন্দকেশ্বরী, তারাপীঠ, নবদ্বীপ ধাম, কালনার ১০৮শিব মন্দির যাওয়া যায়। ফলে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চালানো হলে পর্যটনের ক্ষেত্রেও রেল লাভবান হবে বলে দাবি যাত্রী সংগঠনের সম্পাদক সুবীর সেনের। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পূর্বরেলের জেনারেল ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে। সেদিনই কলকাতাগামী দু’টি ট্রেনের ট্রায়ালও হয়েছিল। কিন্তু এখনও ট্রেন চলাচল কার্যকর হল না। এতে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। রবিবার স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কাজ না হলে এবার বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে। এব্যাপারে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাব।



