Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আহমদপুরে স্থায়ী বাজারের দাবি উচ্ছেদ হওয়া সব্জি বিক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের

আহমদপুরে স্থায়ী বাজারের দাবি উচ্ছেদ হওয়া সব্জি বিক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: আহমদপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছিল একটি সব্জির বাজার। মাস দুয়েক আগে রেলের জায়গায় বসে থাকা আহমদপুর বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা সেই সব্জির বাজারকে উচ্ছেদ করে দেয় পূর্বরেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওই বাজারের প্রায় আড়াই থেকে তিনশো সব্জি বিক্রেতা সিউড়ি-আহমদপুর-লাভপুর রাস্তার দু’ধারে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে সব্জি বিক্রি করছেন। তাই সেখানে একটি স্থায়ী সব্জির বাজার নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি জায়গা শনাক্ত করে কৃষি বিপণন মন্ত্রীর হাতে আবেদন তুলে দিয়েছেন লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা। তিনি বলেন, আহমদপুরে প্রায় ২৫ হাজার লোকের বসবাস। রেলের জায়গায় থাকা সব্জির বাজারের ওপরেই নির্ভরশীল ছিলেন সাধারণ মানুষ ও সব্জি বিক্রেতারা। কিন্তু রেল হঠাৎ তাঁদের উচ্ছেদ করায় এখন তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। রাস্তার ধারে আড়াই-তিনশো সব্জি বিক্রেতা বসার জন্য রাস্তায় ব্যাপক যানজটও হচ্ছে প্রতিদিন। তাই আহমদপুরে বিডিও অফিসের পাশে একটি জায়গা দেখা হয়েছে। সেই জায়গায় স্থায়ী সব্জির বাজার নির্মাণের জন্য কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। তিনি বিষয়টি নিয়ে বীরভূমের জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যে সব্জি বাজার ছিল, সেই জায়গার বদলে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার জন্য দীর্ঘদিনের চেষ্টা চালাচ্ছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু স্থায়ী সরকারি জায়গার অভাবে এই সব্জি বাজার স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়নি এতদিনে। কিন্তু বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের সরকারি জায়গা থেকে এই বাজার উঠিয়ে দেওয়ায় দারুণভাবে বিপাকে পড়েছেন সব্জি ক্রেতা ও বিক্রেতারা। 
উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ পথে আহমদপুর রেল স্টেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই স্টেশনে ট্রেন ধরতে যাতায়াত করেন। আর সেই ট্রেনের যাত্রীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই স্টেশন সংলগ্ন সব্জি বাজারে কেনাকাটা করতেন। এতে সব্জি বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়েরই সুবিধা হতো। আশপাশে গ্রামাঞ্চলের চাষিরাও এই বাজারে সব্জি নিয়ে আসতেন বিক্রির জন্য। প্রায় আড়াই থেকে তিনশো সব্জি বিক্রেতা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সব্জি বিক্রি করতেন। পূর্ব রেলের তরফে এই জায়গা খালি করার জন্য একাধিকবার নোটিস করে জানানো হয়েছে, বলে রেল সূত্রে খবর। তারপরই সেই নোটিসের ভিত্তিতে সেখান থেকে সব্জি বাজার সরানো হয়। সেখানে শুধু সব্জি নয় ফল ব্যবসায়ী ও চায়ের দোকানও ছিল ওই জায়গায়। তাই আহমদপুরের মতো জনবহুল এলাকায় একটি স্থায়ী সব্জি বাজারের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেই দাবিই এবার পূরণের আশা বাসিন্দাদের। এলাকার বাসিন্দা ঋষিরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ সোনার বলেন, এই বাজারটি এলাকার মধ্যস্থলে অবস্থান করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে রেল স্টেশনের ধারে ছিল বাজারটি। হঠাৎ এই বাজার উঠিয়ে দেওয়ায় সবাই সমস্যায় পড়েছেন। এখানে স্থায়ী বাজার করার উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এতে বহু মানুষের উপকার হবে। আর আহমদপুরের মেন রাস্তাটিও যানজট মুক্ত হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ