নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাসায়নিক সারের কালোবাজারির কথা স্বীকার করে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের উপর দোষ চাপালেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। সোমবার বড়জোড়া ব্লকের ফুলবেড়িয়া এলাকায় একটি সিড ফার্মের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দুধকুমারবাবু বলেন, গত ৪৯ বছরে রাজ্যের কোনো কৃষিমন্ত্রী ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির কথা বলেননি। চাষিরাও ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির দাবি তুলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার রাসায়নিক সারে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা ভরতুকি দেয়। ওই সার ব্যবসায়ীরা লুট করতেন। তা বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হত। আমাদের সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী রবি মরশুমে চাষিরা ন্যায্য দামে সার পাবেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী দিবাকর ঘরামি, বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পেও এরাজ্য পিছিয়ে পড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই রাজ্যে ফের বিনিয়োগ হচ্ছে। এদিনের সিড ফার্মের শিলান্যাস তার অন্যতম উদাহরণ। এদিন অনুষ্ঠানে আসার আগে আমি বাঁকুড়ার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি উদ্যোগে বীজ, সার প্রভৃতি তাঁরা সময়মতো পাচ্ছেন না বলে আমার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান সহ অন্যান্য ফসল বিক্রি করতেও সমস্যা হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। বড়ো বড়ো মান্ডি, সিড ফার্ম থাকলেও কর্মীর অভাবে সেগুলি ধুঁকছে। বীজের উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় রাসায়নিক সারের কালোবাজারি নিয়ে চাষিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বস্তা পিছু ইউরিয়া, এনপিকে, ডিএপি সহ সব সারেরই বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। এমআরপির থেকে ২০০-৩০০ টাকা বস্তায় বেশি দাম নেওয়ার কথা খুচরো সার বিক্রেতারা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা কিছুদিন আগে পাইকারি সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এমআরপিতে সার বিক্রির জন্য কোম্পানি, পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাতে অনেকটাই সুরাহা হয়েছে। আলু চাষের সময় থেকেই চাষিরা ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন। চাষিরা যাতে সময়মতো কৃষি যন্ত্রপাতি, ফসলের ন্যায্য দাম, বিমার সুবিধা পান, তা দেখার জন্য এদিন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের আমি নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি আধিকারিকরা যাতে কাজে ঢিলেমি না করেন তাও দেখতে বলা হয়েছে। আগের সরকার কোনোদিন চাষিদের কাছে গিয়ে তাঁদের দুঃখের কথা জানতে চায়নি। ফলে চাষিরা রাজ্যজুড়েই বঞ্চিত হয়েছেন। আমাদের সরকার পরিবর্তনের জোয়ার আনবে। পিএম কিষান ও রাজ্যের অনুদানও চাষিরা দ্রুত পেয়ে যাবেন। সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। তারমধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৯০ শতাংশ উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজও ধীরে ধীরে হয়ে যাবে। বেলিয়াতোড়ে কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মণ্ডল। -নিজস্ব চিত্র