নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কৃষিক্ষেত্রে এবার প্রযুক্তির ছোঁয়া! কৃষকদের কষ্ট লাঘব করতে আসরে নামছে অত্যাধুনিক ড্রোন। মানুষের তুলনায় কয়েকগুণ দ্রুতগতিতে জমিতে কীটনাশক ছড়াতে পারদর্শী ড্রোন ঘিরে আশার আলো দেখছেন বীরভূম জেলার চাষিরা। তবে কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার অনেকটাই ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে অবশ্য কৃষিদপ্তর কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষিদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, ফার্ম মেশিনারি ব্যাঙ্ক প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের এককালীন ৮০ শতাংশ আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে। এছাড়া স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের অবগত করতে জেলাজুড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণেরও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। জেলা কৃষি দপ্তরের অতিরিক্ত নির্দেশক (প্ল্যান্ট প্রোটেকশন) জয়ন্তপ্রসাদ চন্দ বলেন, ইতিমধ্যে জেলায় কৃষকরা ড্রোনের মাধ্যমে চাষের কাজ শুরু করেছেন। অনেকেই ড্রোন ভাড়া নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ সারছেন। তবে তাঁরা প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চাইলে দপ্তরের তরফে তাঁদের আর্থিকভাবে সাহায্যও করা হবে। এককালীন অনুদানও দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য কৃষিকাজকে আরও উন্নত করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। কৃষিকাজে বহুদিন আগেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। শ্রমিকদের পরিবর্তে যন্ত্রপাতির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। এতে কৃষকেরা যেমন লাভের মুখ দেখছেন তেমনই সুনিপুণভাবে কৃষিকাজও সম্পন্ন হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইলামবাজারে কৃষিকাজের জন্য ড্রোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। জেলা কৃষিদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, ড্রোনের সাহায্যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণ জমিতে কীটনাশক ছড়ানো সম্ভব। তথ্য অনুসারে, এক বিঘা জমিতে কীটনাশক ছড়াতে একজন শ্রমিকের একদিন সময় লাগে। সেই কাজ ড্রোনের সাহায্যে করা হলে খুবই অল্প সময় লাগে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি ড্রোনের সাহায্যে মাত্র ১৮ মিনিটে তিন ধাপে ৩ একর জমিতে কীটনাশক ছড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে আর্থিকভাবে কৃষকরা অনেকটাই সমৃদ্ধ হতে পারবেন। সেইসঙ্গে জল ও কীটনাশকের খরচও অনেকটাই কম হবে।



