নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে বর্ষাকালীন খারিফ শস্যের চাষ শুরু হবে। জেলার কৃষিদপ্তর চাষের আগে মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপর জোর দিচ্ছে। শরীরের স্বাস্থ্যের মতোই মাটির স্বাস্থ্য জানা জরুরি। তাই জমির স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চাষিদের সয়েল হেল্থ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বর্ষা শুরুর আগেই চাষিদের জমি কর্ষণ করতে পরামর্শ দিয়েছে কৃষিদপ্তর।
ঝাড়গ্রাম জেলার কৃষি অধিকর্তা অজয় শর্মা বলেন, বর্ষাকালীন খারিফ চাষের আগে চাষিদের মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। যাঁরা পরীক্ষা করিয়েছেন তাঁদের হাতে মাটির স্বাস্থ্য কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের আগে থেকে জমি কর্ষণ করার জন্যও বলা হচ্ছে। কৃষিকাজে জমির মাটি কতটা উর্বর ও পুষ্টিকর উপাদানের অভাব আছে কি না তা জানা প্রয়োজন। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে তা ভালোভাবে জানা যায়। মাটির স্বাস্থ্য কার্ডে মাটির জন্য কোন পুষ্টির প্রয়োজন তা উল্লেখ থাকে। কার্ডের সাহায্য চাষিরা মাটিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করে সঠিক যত্ন নিতে পারেন। ঝাড়গ্রাম জেলায় বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন মাটির ধরন। জেলার উত্তর অংশ কংসাবতী নদী অববাহিকার অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ এলাকা সুবর্ণরেখা নদী অববাহিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। দোঁয়াশ, বেলে মাটির এলাকা। পশ্চিম এলাকার জমি উঁচুনিচু ঢেউখেলানো। জেলার পশ্চিম ও মধ্য ভাগের মাটি ল্যাটেরাইট। মাটির উর্বরতা নিয়ে সঠিক তথ্য না থাকায় পর্যাপ্ত ফসল ফলানো যেত না। জেলার চাষিরা মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মাটির স্বাস্থ্য কার্ডের দ্বারা সঠিক তথ্য পাচ্ছেন। গত দু’বছর বৃষ্টির অভাবে জেলায় চাষ দেরিতে হয়েছিল।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, জুন থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে। জেলার কৃষিদপ্তর আগে থেকেই মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। জমির কর্ষণ করার জন্যও চাষিদের বলা হচ্ছে। জুন ও জুলাই মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে খারিফ ধানের ফলন গত দু’বছরের থেকে ভালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর ১৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আউশধান ও ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে আমান ধান চাষ হয়েছিল। উৎপাদিত মোট ধানের পরিমাণ ৭ লক্ষ ৬২ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন বাড়ায় জেলার চাষিদের মধ্যে আগাম মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোয় উৎসাহ বেড়েছে। মাটি পরীক্ষার সঙ্গেই জমিতে কর্ষণ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগে থেকে জমি কর্ষণ করা হলে মাটি জল শুষে নেবে। মাটি গভীর পর্যন্ত ভিজে থাকবে। বীজতলা তৈরির সময় চারা সুস্থ ও রোগ প্রতিরোধক্ষম থাকবে।জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মাটির উর্বরতা ও ভালো ফলনের জন্য নাইট্রোজেন, সালফার ফসফরাস, পটাশিয়াম ও অনুখাদ্য দস্তা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও বোরন অপরিহার্য। মাটির স্বাস্থ্য কার্ডে কোনগুলি প্রয়োজন উল্লেখ থাকে। চাষিরা তা দেখে পদক্ষেপ নিতে পারেন। বিনপুরের কাকো এলাকার প্রবীণ চাষি সন্দীপ মাইতি বলেন, অভিজ্ঞতা নির্ভর প্রথাগত পদ্ধতিতেই চাষ করতাম। মাটির উর্বরতা কেমন তা আগে জানতে পারলে ব্যবস্থা নিতে পারব। ফলনও ভালো হবে।