নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেম বা সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা। অর্থাৎ সীমিত জায়গায় ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাণী পালন, হাঁস-মুরগি প্রতিপালন, উদ্যানপালনের সুবিধা। গ্রামীণ হাওড়ায় সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। এতে উৎসাহিত হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি চাষিরা। বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে এখানেই কর্মসংস্থানের দিশা দেখানো হচ্ছে স্কুলছুট থেকে শুরু করে বেকার যুবক-যুবতীদের। স্বনির্ভর হতে অনেকেই শুরু করছেন নিজস্ব ফার্মিং।
হাওড়ার বড়গাছিয়া-জগৎবল্লভপুর রাজ্য সড়কের পাশেই রয়েছে জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে এটি। চাষবাস, পশুপালন, মৎস্য উৎপাদনের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা চলে এখানে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার কৃষক পরিবারের সদস্যদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং কীভাবে আধুনিক কৃষি বিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করানো যায়, তারই চেষ্টা জারি রেখেছেন এখানকার বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাবজেক্ট ম্যাটার স্পেশালিস্টরা। এই কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে রয়েছে মাশরুম উৎপাদন, ভার্মি কম্পোস্ট, পোলট্রি-গোটারি, পলি হাউস, হাইড্রোপনিক্স, রঙিন মাছ চাষ, প্রোজেনি অর্চার্ড, ড্রাগন ফ্রুট এবং ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেমের ইউনিট। সাধারণ চাষবাসের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে মাশরুম উৎপাদন, রঙিন মাছ চাষ ও পোলট্রি ক্ষেত্রে চাষিদের স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে এই কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেমে উৎসাহিত করে তোলা হচ্ছে জেলার ছোট ও মাঝারি চাষিদের।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সাবজেক্ট ম্যাটার স্পেশালিস্ট ডঃ কৌশিক নাগ, ডঃ অর্ক সামন্ত, ডঃ সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়রা জানান, ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেমে সীমিত জায়গার মধ্যে অনেক কিছু উৎপাদন করতে পারছেন চাষিরা। এতে একই খরচে নানাভাবে আয়ের সংস্থান বাড়ছে কৃষক পরিবারে। পরিবারের শুধু একজন নন, প্রত্যেক সদস্যই সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বতন্ত্র রোজগারের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। গ্রামীণ হাওড়ার বহু চাষি কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় সফলভাবে এই কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। মরশুমি ফল বা ফসল উৎপাদনের জায়গার মধ্যেই অনেক চাষি আবার বছরভর রঙিন মাছ চাষ করে আয় বাড়িয়েছেন কয়েকগুণ। জানা গিয়েছে, ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেমে চাষিদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ব্লক নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এখানকার বিজ্ঞানীরা। স্কুলছুট, বেকারদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের এখানে নিয়ে এসে পশুপালন, উদ্যানপালন, উদ্ভিদ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ছোট ছোট কোর্স করানো হচ্ছে। তাতে মিলছে সাফল্য। ছোটখাট ঋণ নিয়ে বহু বেকার যুবক-যুবতী নতুন প্রজাতির পোল্ট্রি ফার্মিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং সিস্টেম গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নিজস্ব চিত্র