তেহরান: বেজায় ক্ষিপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাও আবার ইজরায়েলের উপরে! কারণ, রবিবারই ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এরইমধ্যে লেবাননে হামলা চালায় ইজরায়েল। তার পরেই বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, চুক্তি হবেই। তবে তা কয়েক ঘণ্টার জন্য পিছিয়ে গিয়েছে।
ট্রাম্প প্রথম থেকে দাবি করলেও তেহরান আগেই জানিয়েছিল, এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সময় নিয়ে শর্তগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমঝোতার জন্য ইরানের শর্তের তালিকায় রয়েছে লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সেখানেই ফের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল। বেইরুটের দক্ষিণাংশের একাধিক এলাকায় মিসাইল ছোড়ে ইজরায়েলি সেনা। ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি বহুতল। বেইরুটের ঘোবেইরি-দাহিয়ে এলাকায় প্রায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জখম ১৫ জন। হামলায় এক হিজবুল্লা কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর। এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তাঁর কটাক্ষ, প্রতিশ্রুতি পূরণে হয় আমেরিকার সদিচ্ছা নেই, নয়তো তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে।
এর পরেই ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহুকে নিশানা করেন ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ‘বিবেচনার অভাব’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডন। তাঁর সাফ কথা, তেল আভিভ লেবাননে হামলা না চালালে এতক্ষণে শান্তিচুক্তি সই হয়ে যেত। এর পরেই সবপক্ষকে সংযত থাকারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, রবিবারই চুক্তি চাইছেন ট্রাম্প। তবে সেই প্রক্রিয়ায় গড়িমসির দায় তিনি ইরানের ঘাড়েই চাপিয়েছেন। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের কথায়, সমঝোতার মাঝে এই ধরনের হামলা ফের শান্তিচুক্তিতে জল ঢালল। লেবাননে হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিল।
শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবি সামনে আসতেই ইরানে পথে নামেন অসংখ্য মানুষ। ইরানের একাধিক শহর, এমনকি মাসাদে বিদেশ মন্ত্রকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কালো পোশাক, কালো পতাকা ও হাতে খামেনেইর ছবি নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেন— ‘ইস্তফা দাও আরাঘচি!’ তাঁদের নিশানায় বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। বক্তব্য একটাই, এভাবে আত্মসমর্পণ কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না।