নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এক লহমায় উৎসবের আমেজে চলতে থাকা হস্তশিল্প মেলায় যেন শ্মশানের নিরবতা। আগুনের লেলিহান শিখার যাঁদের সামগ্রী গ্রাস করেছে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। এমন শোকের আবহেও সবার তারিফ কুড়িয়েছে ক্লাস অষ্টমের ছাত্র রৌণক দুবে। স্কুল ছুটির পর সে ফিরল মেলার পাশ দিয়ে। তখনই আগুন লাগে। কাঁধ থেকে বইয়ের ব্যাগ নামিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভানোর কাজে। বালতিতে করে জল এনে ঢালতে থাকে একটার পর একটা স্টলে। তাতে বহু শিল্পসামগ্রী রক্ষা পায়। রৌণককে নিয়ে গর্ব করছেন অনেক শিল্পী।
Advertisement
অন্যদিকে বেশিরভাগ অক্ষত স্টলগুলির সামনে শিল্পদের থমথমে মুখ। সেখানেই একই আলোচনা, ঘটনার সময়ে প্রবল হাওয়া যদি উল্টো দিকে বইত তাহলে একটা দোকানেও আস্ত থাকত না। হাওয়া বিপরীত মুখে বয়ে যাওয়ার জন্যই আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়ে গিয়েছে মেলার বেশিরভাগ স্টল।
কলকাতা থেকে নিজের তৈরি সামগ্রী নিয়ে এসেছেন শ্রাবনী চক্রবর্তী। তার বন্ধ স্কুলের সামনে বসেই কথা হচ্ছিল। তিনি বলেন, এদিন এমন হাওয়া দিচ্ছিল বাইরে পোশাকগুলি টাঙাতে পারছিলাম না। সব যেন উল্টে যাবে। প্রবল রাগ হচ্ছিল, ভাবছিল এত হাওয়া দিলে দোকান কী করে সাজাব। বুঝতে পারিনি এই হাওয়াই আমাদের রক্ষা করার জন্য ভগবান পাঠিয়েছেন। না হলে কত কোটি টাকার সামগ্রীর ক্ষতি হত তার কোন ইয়ত্তা থাকত না। একটি দাবি পট শিল্পী রেখা চিত্রকরের। তিনিও বলেন, উল্টো দিক দিয়ে বইতে থাকা হওয়াই আমাদের দিকে আগুন আসা ঠেকাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। হাওয়া যদি আমাদের স্টলগুলির অভিমুখে বইত একটা স্টলও রক্ষা পেত না।
বেশিরভাগ হস্তশিল্পীর সামগ্রী রক্ষা পেলেও সেই ভাগ্যবানদের তালিকায় পড়েননি শিখা ঘোষাল। কলকাতার এই মহিলা এক দশকের বেশি সময় ধরে প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করেন। স্বামী টোটো চালক। দু’জনের রোজগারে দুই সন্তান নিয়ে তাঁদের টানাটানির সংসার। এদিন ঘটনার সময়ে তিনি বাইরে ছিলেন। তাঁর পসরা রাখা ছিল ফুড স্টলের অদূরেই। আগুনের পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তার সব সামগ্রী। কান্নায় ভেঙে পড়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মাদুর নিয়ে এসেছিলেন প্রতিমা দাস। তার বেশিরভাগ সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে। একই অবস্থা পটশিল্পী জরিনা চিত্রকরের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। সঙ্গে দমকলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ রয়েছে। কেন তাঁরা আগে এল না? সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসন এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। পাশেই রয়েছে জেলাশাসক, মহকুমা শাসকদের বাংলো। এমন হাইপ্রোমাইল জোনে এত নিরাপত্তার অভাব থাকবে কেন। মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, এটা কোন রাজনীতির বিষয় নয়। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অষ্টম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া রৌণক দুবে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় অগ্নিকাণ্ড দেখে। -নিজস্ব চিত্র
কলকাতা থেকে নিজের তৈরি সামগ্রী নিয়ে এসেছেন শ্রাবনী চক্রবর্তী। তার বন্ধ স্কুলের সামনে বসেই কথা হচ্ছিল। তিনি বলেন, এদিন এমন হাওয়া দিচ্ছিল বাইরে পোশাকগুলি টাঙাতে পারছিলাম না। সব যেন উল্টে যাবে। প্রবল রাগ হচ্ছিল, ভাবছিল এত হাওয়া দিলে দোকান কী করে সাজাব। বুঝতে পারিনি এই হাওয়াই আমাদের রক্ষা করার জন্য ভগবান পাঠিয়েছেন। না হলে কত কোটি টাকার সামগ্রীর ক্ষতি হত তার কোন ইয়ত্তা থাকত না। একটি দাবি পট শিল্পী রেখা চিত্রকরের। তিনিও বলেন, উল্টো দিক দিয়ে বইতে থাকা হওয়াই আমাদের দিকে আগুন আসা ঠেকাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। হাওয়া যদি আমাদের স্টলগুলির অভিমুখে বইত একটা স্টলও রক্ষা পেত না।
বেশিরভাগ হস্তশিল্পীর সামগ্রী রক্ষা পেলেও সেই ভাগ্যবানদের তালিকায় পড়েননি শিখা ঘোষাল। কলকাতার এই মহিলা এক দশকের বেশি সময় ধরে প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করেন। স্বামী টোটো চালক। দু’জনের রোজগারে দুই সন্তান নিয়ে তাঁদের টানাটানির সংসার। এদিন ঘটনার সময়ে তিনি বাইরে ছিলেন। তাঁর পসরা রাখা ছিল ফুড স্টলের অদূরেই। আগুনের পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তার সব সামগ্রী। কান্নায় ভেঙে পড়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মাদুর নিয়ে এসেছিলেন প্রতিমা দাস। তার বেশিরভাগ সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে। একই অবস্থা পটশিল্পী জরিনা চিত্রকরের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। সঙ্গে দমকলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ রয়েছে। কেন তাঁরা আগে এল না? সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসন এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। পাশেই রয়েছে জেলাশাসক, মহকুমা শাসকদের বাংলো। এমন হাইপ্রোমাইল জোনে এত নিরাপত্তার অভাব থাকবে কেন। মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, এটা কোন রাজনীতির বিষয় নয়। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অষ্টম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া রৌণক দুবে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় অগ্নিকাণ্ড দেখে। -নিজস্ব চিত্র



