সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: মালদহের রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা অঞ্চলের বাণীকান্তটোলার বলরামপুর খাটিটোলায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয় ছয় পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি। রবিবার এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে সর্বস্বান্ত হয়েছে ছয়টি পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আগুনে পুড়ে ছাই বাড়িঘর সহ আসবাবপত্র। দূরত্বের কারণে ঘটনাস্থলে দমকল পৌঁছতে পারে না বলে অভিযোগ। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা রতুয়ায় দমকল কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। স্থানীয় ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, মহানন্দাটোলা অঞ্চলের খাটিটোলা গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম মণ্ডলের বাড়িতে হঠাৎ করেই আগুন লাগে। আগুন দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠতে দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে বিধ্বংসী আগুন ছড়িয়ে পড়ে গৌতমের ভাই আদিত্য মণ্ডল সহ প্রতিবেশি চার পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর দেওয়া হয় চাঁচল দমকল কেন্দ্রে। দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তার আগেই ছয়টি পরিবারের বাড়িঘর, আসবাবপত্র, পোশাক, ঘরে মজুত খাদ্যশস্য, নগদ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা এই শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটান। ক্ষতিগ্রস্ত নিভা মণ্ডল বলেন, বাড়িতে আগুন কীভাবে লাগল বুঝতে পারিনি। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে বাইরে ছুটে আসি। বাড়ির আসবাবপত্র,খাদ্য সামগ্রী সমস্ত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের কোনও সহযোগিতা মেলেনি। স্বামী ভিন রাজ্যে কাজ করেন। মাথা গোঁজার ঠাঁইও শেষ হয়ে গেল। এই প্রসঙ্গে চাঁচল দমকল কেন্দ্রের ইনচার্জ রতন সিংহ বলেন, মহানন্দটোলা অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা ইঞ্জিন নিয়ে রওনা দেন। তবে রাস্তা খারাপ থাকায় দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কী কারণে আগুন লাগল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।



