Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আগাম চাষ করে মোটা লাভ, কপাল খুলেছে আলু চাষিদের

আগাম চাষ করে মোটা লাভ, কপাল খুলেছে আলু চাষিদের
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: আলু চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। আগাম চাষ করে তাঁদের লক্ষ্মীর ঝাঁপি কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে। বহু বছর পর খরচার প্রায় সমান হারে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। তবে এখন খুবই অল্প পরিমাণ জমির আলু উঠছে। ফলে লাভের অঙ্ক কতদিন এক জায়গায় স্থির থাকবে তা নিয়ে অনেকেরই আশঙ্কা রয়েছে। তবে এবার গোল আলু চাষিদের হতাশ করবে না বলেই ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদে ঘূর্ণিঝড় ডানার আগে বেশ কিছু চাষি আলু বসিয়েছিলেন। তবে তার পরিমাণ খুবই সামান্য। সে সময়ে পাঞ্জাবের আলুবীজের দামও কম ছিল। আলু চাষে শ্রমিকের মজুরিও কম ছিল। আলু চাষিদের বক্তব্য, সে সময়ে বিঘা প্রতি আলু চাষে ২৮-২৯ হাজার টাকা খরচা হয়েছে। চাষিরা শুরুতেই খরচার সমান লাভের টাকা ঘরে তুলছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়ঞা ব্লকেই সব থেকে প্রথমে আলু ওঠে। জেলার বিভিন্ন বাজার সহ বহরমপুরের বাজারে আসছে সেই আলু। সময়ের আগে আলু তোলায় ফলন অনেক কম হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আলুর ভালো দাম থাকায় চাষিরা কোদাল নিয়ে জমিতে নেমে পড়েছেন। আগাম আলু চাষিরা এখন কাঠা পিছু আড়াই প্যাকেট (৫০ কেজি) হারে ফলন পাচ্ছেন। কোনও কোনও চাষি তিন প্যাকেট হারেও ফলন পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার চাষিরা ১১০০ টাকা প্যাকেট হিসেবে দাম পেয়েছেন। সেই হিসেবে বিঘা প্রতি ৫৫ হাজার টাকা চাষিদের ঘরে এসেছে। সুন্দরপুরের আলু চাষি সৈয়দ নিজামুদ্দিন বলেন, আর কয়েকদিন সময় দিলে ওই জমিতেই চার প্যাকেট হারে ফলন হতো। তবে দামও নীচে নামত। গড়পড়তা লাভের অঙ্ক একই দাঁড়াত। নামু বেলডাঙার আলু চাষি প্রদীপ পাল বলেন, আমাদের মাঠের মাটি ভালো। ডানা ক্ষতি করতে পারেনি। ভালো লাভ হচ্ছে, তাই বেশি ফলনের আশা করিনি। ডাকবাংলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হীরা মির্জা বলেন, আলু এবার চাষিদের ভালো লাভ দেবে। আমদানি বেশি হলে দাম কিছুটা হয়তো নামবে। তবে চাষিদের মোটা লাভ থাকবে।
এতদিন পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশের নতুন আলু বহরমপুরে সব্জি বাজার দখল করেছিল। স্থানীয় আলু আমদানি হতে শুরু করায় মানুষ ভিন রাজ্যের আলু থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন। স্থানীয় নতুন আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। চাষিদের ও খুচরো বাজারে আলুর দামের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্পর্কিত সংবাদ