Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আগামী বছর দেড়শোয় পা সিউড়ি শহরের উন্নয়নে নাগরিকদের পরামর্শ নেবে পুরসভা

আগামী বছর দেড়শোয় পা সিউড়ি শহরের উন্নয়নে নাগরিকদের পরামর্শ নেবে পুরসভা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ১৫০তম বর্ষে পা দেবে রাজ্যের অন্যতম পুরনো শহর সিউড়ি। পুরসভার নথি অনুযায়ী শহরের গোড়াপত্তন হয় ১৮৭৬ সালে। তাই আসন্ন বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে তৎপর প্রশাসন ও পুরসভা। শহরকে কেমন দেখতে চান? নাগরিকদের কাছে পরামর্শ নেবেন পুরসভার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। পরামর্শের গুরুত্ব অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শহরের প্রাচীনত্বের ইতিহাস বহণ করা নানা ভবন, স্মৃতিচিহ্নগুলি সংরক্ষিত এবং সৌন্দার্যায়ন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইতিম঩ধ্যেই ১৫০তম বর্ষের উন্নয়নের জন্য পুর দপ্তরে বিশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন পেলেই নতুন রূপে সাজতে পারে বহু উপেক্ষিত এই প্রাচীন শহর। সিউড়ির মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা বলেন, সামনের বছরই শহরের দেড়শোতম বর্ষ। আমরা শহরকে আধুনিক করে তোলার নানা পরিকল্পনা করেছি। পুরসভাও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। একটি বিশেষ প্রস্তাব ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে বিস্তারিত বলতে পারব। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরকে কেমন দেখতে চান বাসিন্দারা তা আমরাও জানতে আগ্রহী। নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন হলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকে। ডিসেম্বর মাস থেকেই পুরসভার ড্রপবক্সে বাসিন্দারা শহর সাজাতে নিজেদের পরামর্শ জমা করতে পারেন। 
Advertisement
কবিগুরুর কর্মভূমি শান্তিনিকেতন বিশ্ববাসীর কাছে অতি পরিচিত নাম। সেকারণে বোলপুর শহরের খ্যাতিতে পাশে থাকা সিউড়ি শহরের জৌলুস অনেকটাই অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। অথচ প্রাচীনত্বের বিচারে রাজ্যের বহু শহরকে টেক্কা দিতে পারে বীরভূমের সদর শহর। দেড়শ বছর আগে শহরের তকমা পাওয়া এই জনপদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে বারবার। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক উন্নয়ন না করার ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলারদের ভূমিকা থাকে। শহরের প্রাচীন স্থানগুলি নিয়ে আলাদা করে কোনও ভাবনাচিন্তা করা হয়নি। শহরের রাস্তা দখল করে গজিয়ে উঠেছে নির্মাণ। বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের সঙ্কটও মানুষকে ভাবিয়েছে। দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস পার করে সিউড়ি দেড়শো বছরে পা দিতে চলেছে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই শহরের ভোল বদলাতে মরিয়া প্রশাসন। জানা গিয়েছে, জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের জন্য রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। জখবদখল সরিয়ে প্রথমে রাস্তা চওড়া করবে প্রশাসন। তারপর রাস্তার দু’পাশে সৌন্দার্যায়ন হবে। পর্যাপ্ত স্টিটলাইটে সাজবে শহর। তারপর শহরবাসীর পরামর্শ মেনে দেড়শোতম জন্মদিনে নবরূপে সেজে উঠবে সিউড়ি।
সম্পর্কিত সংবাদ