Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আড়ংঘাটায় ফের একাধিক দোকানের শাটার ভেঙে চুরি, আতঙ্ক এলাকাজুড়ে

আড়ংঘাটায় ফের একাধিক দোকানের শাটার ভেঙে চুরি, আতঙ্ক এলাকাজুড়ে
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফের চুরি! আড়ংঘাটায় চোরদের দাপট যেন ঠেকানোই যাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি চুরির একটি গ্যাংকে পুলিস জালে পুরতেই সক্রিয় এবার অন্য গ্যাং। এবার সব্দালপুরের একাধিক দোকানে রাতের অন্ধকারে ভাঙা হল শাটার। ফলে নতুন চোরেদের উৎপাতে ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড় পুলিসের।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আড়ংঘাটা যুগলকিশোর পঞ্চায়েত এলাকায় সব্দালপুরে একাধিক দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে শনিবার রাতে। কোথাও দোকানের শাটার ভেঙে লুটপাট চলে ক্যাশ বাক্স। কোথাও শোরুমের শাটার ভেঙে বাইক চুরির চেষ্টা হয়। রবিবার সকালে সব্দালপুরের একাধিক জায়গাতেই মিলেছে চোরেদের উৎপাতের নিদর্শন। যেমন রঞ্জিত সরকার নামে এক ব্যক্তির স্টেশনারি দোকান রয়েছে ওই এলাকায়। দোকানের ভিতর ক্যাশবাক্সে হাজার দশেক টাকা ছিল। কিন্তু সকালবেলা দোকান খুলতে এসে দেখেন শাটার ভাঙা। ভিতরে ঢুকে দেখেন দোকানের মালপত্র লণ্ডভণ্ড করা। উধাও ক্যাশবাক্সের টাকা। খানিক দূরে হয়ে রয়েছে একটি নামী কোম্পানির মোটর বাইকের শোরুম। সেখানেও তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে চোরের দল। শোরুম থেকে সরাসরি নতুন গাড়ি চুরির চেষ্টা করা হয়। শোরুমের মালিক সুজয় ভট্টাচার্য বলেন, গাড়িগুলিতে ব্যাটারি লাগানো ছিল না। ফলে চোরেদের উদ্দেশ্যসাধন হয়নি। কিন্তু একটি গাড়ি চুরি গেলেই প্রচুর টাকার লোকসান হতো। চুরি করতে না পেরে চারদিক লণ্ডভণ্ড করেছে। টাকা-পয়সা তেমন ছিল না বলে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। কয়েকদিন আগেই যুগলকিশোর পঞ্চায়েতের সরদারপাড়া এলাকায় পরপর পাঁচটি দোকানে চুরি হয়। সেখানেও বেশ কয়েক হাজার টাকা হস্তগত করে চম্পট চোরের দল। ফলে পুনরায় চোরের আতঙ্কে তটস্থ গোটা আড়ংঘাটা অঞ্চল। গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ধানতলা থানার পুলিস।
মাসখানেক ধরেই চোরের উৎপাত চলছে আড়ংঘাটা জুড়ে। বিভিন্ন বাড়িতে রাতবিরেতে নিঃশব্দে হানা দিচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। নিঃশব্দে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিচ্ছিল তারা। পরপর একাধিক চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সক্রিয় হয় পুলিস। চুরির পিছনে চিহ্নিত করা হয় একটি বিশেষ গ্যাংকে। এরপর অভিযান চালিয়ে সেই গ্যাংটির নাগালও পেয়ে যান তদন্তকারীরা। ফলে বাড়ি বাড়ি চুরির চক্র জালবন্দি হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই মাথা তুলে দাঁড়ায় নতুন গ্যাং। এবার এলাকার বিভিন্ন দোকানকে টার্গেট করে মাঝেমধ্যেই রাতে হানা দিচ্ছে চোরের দল। ধানতলা থানার পুলিসের কাছে নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া এই উৎপাত ঠেকানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বাসিন্দারাও চাইছেন, পুলিস দ্রুত এই নতুন গ্যাংকে জালে পুরুক।
সম্পর্কিত সংবাদ