Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আড়ংঘাটায় বাম আমল থেকেই অসমাপ্ত অবস্থায় কমিউনিটি হল

আড়ংঘাটায় বাম আমল থেকেই অসমাপ্ত অবস্থায় কমিউনিটি হল
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বাম আমলে কমিউনিটি হল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দেড়দশক পরও সেই কমিউনিটি হল পাননি আড়ংঘাটাবাসী। সেই অর্ধনির্মিত কমিউনিটি হল ‘ভুতুড়ে বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে। আড়ংঘাটার শিশু উদ্যানে সেই নির্মাণের ভবিষ্যৎ কী, উত্তর জানে না কেউই।
Advertisement
আড়ংঘাটা রেলস্টেশনের পশ্চিমপাড়ে শিশু উদ্যানটি রয়েছে। একসময় জমিদার ধীরেন ঘোষ তাঁর ঠাকুমা বসন্তকুমারীর নামে শিশু উদ্যান করার জন্য বেশ কয়েক বিঘা জমি দান করেছিলেন। এখন সেখানে দু’টি বড় কালীপুজো হয়। এছাড়া ওই উদ্যানের মাঠ এলাকার সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। সেই মাঠেরই এক কোণে ২০০৮-০৯ সাল নাগাদ একটি কমিউনিটি হল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে‌ই সময় সাংসদ, বিধায়ক, রানাঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতি সবই বামেদের দখলে ছিল। কোন তহবিলের টাকায় সেই কাজ শুরু হয়েছিল, সেই তথ্য এখন পাওয়া যায় না। অভিযোগ, পরিকল্পনাটি আগাগোড়াই অপরিকল্পিত ছিল। ফলে প্রথমে ভিত ও তারপর চারপাশে দেওয়াল তৈরির পর টাকার অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
২০১১সালে বামেদের সরিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। যেহেতু নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্পের কমিউনিটি হল হয়নি, তাই অচিরেই টাকার অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর প্রায় ১৪বছর পেরিয়ে গিয়েছে। দিনের পর দিন পড়ে থাকতে থাকতে অর্ধসমাপ্ত কমিউনিটি হল জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। মাঝেমধ্যেই পুরনো ইট খুলে পড়ছে। ইতি-উতি আগাছা জন্মেছে। একবার দেখে ভূতুড়ে বাড়ি বলে ভুল করা স্বাভাবিক। স্থানীয়রা জানালেন, সন্ধ্যায় মাঝেমধ্যেই সেখানে অসামাজিক কাজকর্ম চলে। মদ্যপান ও নেশার আসর বসে।
এলাকার প্রবীণরা জানান, একসময় নিয়মিত এই মাঠে যাত্রা, থিয়েটার, নাটক হতো। কিন্তু এখন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সিপিএমের রানাঘাট পূর্ব-২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক অরুণ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল সরকার আসার পর আমরা মৌখিকভাবে একবার বিডিওর কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন উদ্যোগী হয়নি। মানুষও তৃণমূল নেতাদের কোনও দাবি জানাতে ভয় পায়। তবে আমরা এনিয়ে বড় আন্দোলনে নামব।
রানাঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আশিস দাস বলেন, এধরনের বড় কাজ করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্প ধরতে হয়। কিন্তু বাম আমলে ওই নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্প তৈরি করা হয়নি। যেখান থেকে যেমন টাকা মিলেছে, তেমনভাবে কাজ হয়েছে। পরবর্তীতে টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় আর কাজ হয়নি। অপরিকল্পিত পদক্ষেপ হলে যা হয়। সেজন্যই তো আর ওদের সরকারটা নেই। আমরা কমিউনিটি হলের কাজ শেষ করার চেষ্টা করব। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ