Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফের এজেন্সি অস্ত্র, কলকাতার পুলিশ কর্তার বাড়িতে ইডি, জমি দখলের অভিযোগের নামে গ্রেপ্তার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীও

এই দফায় শুরুটা হয়েছিল আইপ্যাক, তারপর  রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে দিয়ে। আর এবার কলকাতা পুলিশের অন্দরমহলেও মরিয়া এজেন্সি অস্ত্র ছুড়ল বিজেপি।

ফের এজেন্সি অস্ত্র, কলকাতার পুলিশ কর্তার বাড়িতে ইডি, জমি দখলের অভিযোগের নামে গ্রেপ্তার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীও
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই দফায় শুরুটা হয়েছিল আইপ্যাক, তারপর  রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে দিয়ে। আর এবার কলকাতা পুলিশের অন্দরমহলেও মরিয়া এজেন্সি অস্ত্র ছুড়ল বিজেপি। রবিবার সাতসকালে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা রায়ের বাসভবনে হানা দিল ইডি। আর তারপরই তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ, তিনি যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাই এই ‘হেনস্তা’। এদিন সকাল থেকেই ওই পুলিশ কর্তার ফার্ন রোডের বাড়ি সহ ছয় জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। এখানেই শেষ নয়, বেলা গড়াতেই শাসক দলের পরিচিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।

Advertisement

‘জমি দখলে’র অভিযোগে ১ এপ্রিল জয় কামদারের বাড়ি, অফিস এবং সোনা পাপ্পুর দু’টি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তৃণমূলের পরিচিত ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, রুপোর অলংকার সহ বিভিন্ন সামগ্রী। পাপ্পুর বাড়ি থেকে মেলে একটি বিদেশি অস্ত্র। ব্যবসায়ীর থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ঘেঁটেই নাকি দেবাশিস কুমার, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি এজেন্সির। এমনকি পার্ক স্ট্রিট এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের সূত্রও এই সমীকরণে টেনে এনেছে ইডি। কারণ ওই কোচিং সেন্টারে শান্তনুবাবুর ছেলের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এবং ঘটনাচক্রে এর সহযোগী কোম্পানি জয় কামদারের মালিকানাধীন সান গ্রুপ। ইডির দাবি, এই কোচিং থেকে এনআরআই কোটায় ভরতি চলে। এর রেশ টেনে কলকাতার এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সহ দেশজুড়ে তল্লাশিও চালিয়েছে এজেন্সি। 
এই অঙ্কেই ‘সফট টার্গেট’ করা হয় শান্তনুবাবুকে। আর রবিবার ভোর ৬টা নাগাদ ইডি হানা দেয় তাঁর ফার্ন রোডের বাড়িতে। শান্তনুবাবুর আরও একটি বাড়িতে যান অফিসাররা। কিন্তু পুলিশ কর্তা বাড়িতে ছিলেন না। তারপর পার্ক স্ট্রিট এলাকার কোচিং সেন্টার। তল্লাশি শেষে বেরোনোর সময় শান্তনুবাবুর পুত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গোটাটাই বিরোধী দলনেতার চক্রান্ত।’ তারপর তাঁকে বারাকপুরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর। আবার জয় কামদারের ক্ষেত্রে ইডির দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা বিদেশ থেকে এসেছিল। জয়ের কাছে এদিন এই টাকার উৎস জানতে চায় ইডি। এই টাকা ব্যাংক থেকে তোলা হয় বলে দাবি করেন জয়। যদিও এজেন্সির দাবি, নথি ঠিক ছিল না। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারির পর অসুস্থ বোধ করায় অবশ্য জয় কামদারকে ভরতি করা হয়েছে আর জি কর হাসপাতালে।
তৃণমূল তথা বিজেপি বিরোধী দলগুলি সরাসরি বিজেপির এজেন্সি রাজনীতিকেই কাঠগড়ায় তুলছে। মূল প্রশ্ন হল, হঠাৎ ভোটের মুখে কেন? একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার, অন্যদিকে তৃণমূলের পরিচিত ব্যবসায়ী। জনসমর্থনে পেরে না উঠে ‘মেশিনারি’ কাজে লাগিয়ে হেনস্তা চলছে বলে দাবি তৃণমূলের। এদিন সকালে বাংলার ভোট পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়। শোনা যায়, তারা নাকি কর্মীদের মেল করে জানিয়ে দিয়েছে, অফিসে আসতে হবে না। সব কাজ আপাতত স্থগিত। পরে অবশ্য প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আইপ্যাক তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করছে। তবে রাতের খবর, আইপ্যাকের কর্তা ঋষি রাজকে ইতিমধ্যেই সমন পাঠিয়েছে ইডি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ