সংবাদদাতা, করিমপুর: গত কয়েক বছর ধরে সর্ষে চাষে আগাছার সমস্যায় ভুগছেন সীমান্তের চাষিরা। জমিতে অজানা এই আগাছায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সর্ষে চাষ। করিমপুর ১ ব্লকের চাষিরা জানাচ্ছেন, এই প্রথম নয়, গত প্রায় পাঁচ-সাত বছর ধরে মুরুটিয়ার গান্ধিনা, ফুলবাড়ি, তাজপুর ও হোগলবেড়িয়ার বিভিন্ন জমিতে এই আগাছার কারনে সর্ষে উৎপাদন মার খাচ্ছে। এখানে গম বা অন্য জমিতে কোনও আগাছা না থাকলেও প্রতি বছর সর্ষে ক্ষেতে এই আগাছার উৎপাতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ সর্ষে ছাড়া অন্য কোনও ফসলে এই আগাছা জন্মায় না। প্রায় ছয় ইঞ্চি উচ্চতার বেগুনি রঙের এই আগাছা জমিতে হওয়ার পর থেকে সর্ষে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গাছে ফুল থেকে ফল এলেও শুকিয়ে যায়। ফলে সর্ষের দানা হচ্ছে না। এবারেও জমিতে ওই আগাছা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন সকলে। নন্দলালপুরের চাষি নূর মহম্মদ বলেন, গত পাঁচ বছর আগে ঝলসা রোগের কারনে সরকার থেকে নদীয়া, মুর্শিদাবাদে গম চাষ নিষিদ্ধ করেছিল। ফলে তখন থেকে এলাকার বেশিরভাগ চাষি অনেক বেশি জমিতে সর্ষে চাষ করছেন। কিন্তু সর্ষে গাছে যখন ফুল হয় ঠিক তখন খেতে এই আগাছা জন্ম নেয়। সর্ষে গাছে ফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগাছাও বেড়ে ওঠে। এবারও সর্ষের ফল হওয়ার আগেই জমিতে এই আগাছা হয়েছে। অথচ পাশের জমিতে যেখানে মসুর, ছোলা বা অন্য ফসল চাষ করা হয়েছে সেই জমিতে আগাছা হচ্ছে না। যেখানে বিঘা জমিতে প্রায় তিন কুইন্টাল সর্ষে উৎপাদন হয় সেখানে আগাছার কারনে ফলন দাঁড়াবে এক কুইন্টালের কাছে। এলাকার প্রায় ৫০০ একর জমির সর্ষে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গান্ধিনা গ্রামের চাষি নফরউদ্দিন সেখ বলেন, শুধুমাত্র সর্ষের জমিতেই এই সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় সর্ষে চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। আগাছা মারার কোনও ওষুধ নেই। যে কারনে গত কয়েক বছরে মাঠে সর্ষে সেভাবে কারও ঘরে ওঠেনি। এবছরেও বিঘা দুয়েক জমিতে সর্ষে চাষ করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় আট হাজার টাকা খরচ। স্বাভাবিক ফলন হলেও চার কুইন্টাল হওয়ার কথা। এবারে কী হবে জানিনা। করিমপুর ১ ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক মহসিন মণ্ডল বলেন, কৃষি দপ্তরের লোকজন ওই এলাকায় সরেজমিনে পরীক্ষা করে এসেছেন। সর্ষের জমিতে এক প্রকার পরজীবী জন্মায় যা গাছকে নষ্ট করে। গমের মত বছর দুয়েক সর্ষের বদলে অন্য চাষ করার জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে কৃষি দপ্তর প্রচার চালিয়েছে। সর্ষে চাষ বন্ধ না রাখলে ওই আগাছা দূর করা যাবে না।



