নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পাহাড় ঘোরার নেশা ছিল আগরপাড়ার যুবকের। বন্ধুদের সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ে ট্রেকিংয়ে যেতেন নিয়মিত। সেই পাহাড়ই কাড়ল প্রাণ। পশ্চিম সিকিমে ট্রেকিং করতে গিয়ে মৃত্যু হল সুমন দেবনাথের (৪৯)। তিনি পেশায় কাস্টমস অফিসার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পাহাড় ঘোরার নেশা ছিল আগরপাড়ার যুবকের। বন্ধুদের সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ে ট্রেকিংয়ে যেতেন নিয়মিত। সেই পাহাড়ই কাড়ল প্রাণ। পশ্চিম সিকিমে ট্রেকিং করতে গিয়ে মৃত্যু হল সুমন দেবনাথের (৪৯)। তিনি পেশায় কাস্টমস অফিসার।
ট্রেকিং করার সময় শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সিকিম পুলিশের কাছ থেকে ফোনে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পায় সুমনবাবুর পরিবার। মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে বিকেলে ফ্লাইট ধরে সিকিম রওনা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় আগরপাড়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।
সুমনবাবুর বাড়ি আগরপাড়ার চার নম্বর মহাজাতিনগর। বাড়িতে স্ত্রী সুনন্দা দেবনাথ, চার বছরের মেয়ে ছাড়াও বাবা ও মা রয়েছেন। সুমন ভ্রমণপিপাসু ছিলেন। ট্রেকিং করতেও খুব ভালোবাসতেন। গত দশ, বারো বছর ধরেই মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ট্রেকিং করতে বেরিয়ে যেতেন। এবার সিকিম যাচ্ছেন শুধু এইটুকু বলেছিলেন। স্ত্রীকে বলেছিলেন, ওখানে টাওয়ারের সমস্যা থাকবে। মোবাইলে টাওয়ার থাকলে তিনি ফোন করবেন। সঙ্গে যে দুই বন্ধু যাচ্ছেন, তাঁদের ফোন নম্বরও দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার সকালে সিকিম পুলিশের কাছ থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে মর্মান্তিক খবরটি জানানো হয়।
সুমনবাবু দুই বন্ধুর সঙ্গে পশ্চিম সিকিমের ইউকসাম গোয়েচালা ট্রেকে গিয়েছিলেন। ট্রেকিংয়ের এই পয়েন্টটি পশ্চিম সিকিমের গায়ালশিং জেলার উচ্চতম গিরিপথ। উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৯৪০ মিটার (১৬ হাজার ২০৭ ফুট)। গোয়েচালা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দক্ষিণ-পূর্ব মুখ দেখা যায়। ট্রেকারদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় গোয়েচালা ট্রেক পয়েন্ট। সেই টানেই গত ১৪ নভেম্বর শুক্রবার মহাজাতি নগরের বাড়ি থেকে তিনি বেরিয়েছিলেন। গোয়েচালাতে ট্রেকিংয়ের সময় সুমনবাবু সহ বাকি দুই বন্ধুর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। দুই বন্ধু ভাগ্যের জোরে রক্ষা পেলেও সুমনবাবু মারা যান।
স্ত্রী সুনন্দা দেবনাথ বলেন, এর আগেও সুমন কয়েকবার ট্রেকিংয়ে গিয়েছিল। ওর দুর্গম জায়গায় ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কিন্তু এবার কীভাবে এমন হল বুঝতে পারছি না। রবিবার ওঁর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। মেয়ে সহ পরিবারের সবার খোঁজ নিয়েছিল। মাঝের কয়েক দিন কথা হয়নি।
চোখের জল মুছে বলেন, ভাবতেই পারছি না সুমন আর নেই। নাতনিকে তো বলতে পারছি না, ওর বাবা আর কোনওদিন ফিরবে না। এদিন বিকেলের ফ্লাইট ধরে পশ্চিম সিকিমে রওনা দিয়েছেন সুমনের পরিবারের ঘনিষ্ঠরা। সুমনবাবুর বন্ধু সিদ্ধার্থ সেন বলেন, ট্রেকিংয়ের সময় শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে সুমনের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানতে পেরেছি। টাওয়ারের সমস্যার জন্য যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। আমরা রওনা দিয়েছি। ওখানে পৌঁছলেই সুমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারব।