Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

রূপকথার দৌড় শেষে কান্নাই সঙ্গী ভোজিনহাদের

কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে রূপকথার দৌড় শেষ হলো নুনো দ্য কোস্টার কান্নায়। মেসির প্রশংসা পেলেন ভোজিনহা। বিস্তারিত পড়ুন।

রূপকথার দৌড় শেষে কান্নাই সঙ্গী ভোজিনহাদের
  • ৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মায়ামি: গ্যালারির ফেন্সিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নুনো দ্য কোস্টা। ঘামে ভেজা নীল জার্সিটা কেপ ভার্দের স্ট্রাইকারের গলায় জড়ানো। চোখমুখ দু’হাতে ঢাকা, চোখের জল খুঁজে পেয়েছে পথ। গাল বেয়ে বয়ে চলা। রেফারির বাঁশি বেশ কিছুক্ষণ আগেই বেজেছে। দর্শকরাও হোটেলমুখো। কিন্তু নুনোর কান্না থামছে না। গ্যালারি থেকে ছোট্ট একটা ছেলে দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। নিঃশব্দ আলিঙ্গন। সে’ও কাঁদছে। তারপর ফুটবলারের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে খুদের মন্তব্য, ‘বাবা, কেঁদো না, তুমি আজ হেরে যাওনি। জিতেছ। পুরো কেপ ভার্দে জিতেছে। দ্যাখো, আর্জেন্তিনার সমর্থকরাও কেমন আমাদের জন্য তালি বাজাচ্ছে।’ 

Advertisement

হেরে যাওয়া দলকে নিয়ে এত আলোচনা! তারপর আবার যেখানে বিপক্ষ দলে আছেন লায়োনেল মেসি! মহাতারকাকে নিয়েই তো চর্চা হওয়ার কথা। কিন্তু শনিবার যেন সেই রীতিতে ছেদ পড়ল। আসলে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম তখনও কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা আফ্রিকার দেশটি রূপকথার দৌড় থামল রাউন্ড অব ৩২’এ। কিন্তু এত কাছাকাছি এসেও শোনা গেল না, ‘ইটস টাইম ফর আফ্রিকা...।’ সেই আপশোস কাটাবেন কী ভাবে নুনো কোস্টারা! নুনো থুড়ি, লোপেজ-মোইরারাও যে ম্যাচ শেষে সবুজ গালিচায় মুখ লুকিয়ে কাঁদছিলেন। তাঁদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে এলেন ওটামেন্ডি, লাওতারোরা। ভোজিনহাকে জড়িয়ে ধরে মেসিও বললেন, ‘অসাধারণ খেলছ। দেশের মানুষের তোমাদের নিয়ে গর্ব করা উচিত।’ মহাতারকার থেকে এমন প্রশংসা ক’জনই বা পায়। কিন্তু ভোজিনহা তা অর্জন করেছেন। মেসি একবার জাল কাঁপালেও বাকি সময় তাঁকে রুখেছেন ‘ছোট্ট ঠাকুমা’। ভোজিনহার পাশাপাশি উল্লেখ করতে হবে লোপেজের কথাও। ১০৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে  তাঁর গোল এখনও পর্যন্ত চলতি টুর্নামেন্টে সেরা। 
ম্যাচের শুরুতে গ্যালারিতে বড় বড় পোস্টার উড়ছিল, ‘স্মল আইল্যান্ড, বিগ ড্রিমস, নেভার গিভ আপ’— মাঠে সেটাই বাস্তবায়িত করেছেন ভোজিনহারা। আর এই অবিশ্বাস্য লড়াই থেকে কেপ ভার্দে ভালোবাসা, সমীহ, সম্মান সবই অর্জন করল। পেল না শুধু জয়। তাতে কী? হার কর জিতনেওয়ালে কো ‘কেপ ভার্দে’ কহতে হ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ