সংবাদদাতা, দিনহাটা: ৩ মার্চ বিয়ে করেন শিক্ষক সৌরভ সাহা। দিনহাটার নিগমনগরের বাসিন্দা সৌরভ কামাখ্যাগুড়িতে বিয়ে করেন। পাত্রীর নাম সুপ্রিয়া সাহা। বাড়িতে ধুমধাম করে বউভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেখানে শামিল ছিল না সৌরভের দ্বিতীয় পরিবার। সৌরভের দ্বিতীয় পরিবার তাঁর কর্মস্থল সাহেবগঞ্জের গর্ভডাঙ্গা জগন্নাথ ধাম এপি বিদ্যালয়। ছাত্রছাত্রীদের বউভাতে খাওয়াতে না পেরে মন খারাপ ছিল তাঁর। স্বামীর কষ্ট অনুভব করেছিলেন স্ত্রীও। তাই দু’জনে মিলে পরিকল্পনা করেন বিদ্যালয়ে আরও একটি প্রীতিভোজ আয়োজনের।
সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রস্তাব দেন সৌরভবাবু। সানন্দে তাতে মত দেন প্রধান শিক্ষক সহ সহকর্মীরা। ১০০’র বেশি ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রীতিভোজের দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয় বুধবার। বাড়ির বউভাতের মতো একই মেনু করা হয়েছিল। মেনুতে ছিল সরু চালের ভাত, স্যালাড, ডাল, কাতলা মাছ, পাঁঠার মাংস, মুরগির মাংস, পাপড়, চাটনি ও মিষ্টি। নবদম্পতিকে উপহারও দিয়েছে ছাত্রছাত্রী সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষক সৌরভ সাহা বলেন, আমার কর্মস্থল আমার দ্বিতীয় পরিবার। এখানকার ছাত্রছাত্রীরা বউভাতে হাজির হতে পারেনি। তাদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করেছি। স্ত্রী সুপ্রিয়া সাহা বলেন, স্বামীর মুখে সবসময় ছাত্রছাত্রীদের কথা শুনি। তাদের জন্য আরেকটি প্রীতিভোজের আয়োজন করতে পেরে খুব খুশি হয়েছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, এটি খুবই মহতি উদ্যোগ। এতে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি আমরা সকলেই খুশি হয়েছি।বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রাঁধুনী জামিলা বিবি বলেন, এই বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হওয়ার পর থেকেই আমি রাঁধুনীর কাজ করছি। এরকম খাবারের আয়োজন দেখিনি। ওই শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের খুবই ভালোবাসেন। বিয়েতে আমাদের সকলকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সমস্যা থাকায় আমরা যেতে পারিনি। ১০০’র বেশি ছাত্রছাত্রী সহ সকলের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।