নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজ্যের অনেক জায়গাতেই স্কুলের বৃত্তিমূলক শাখার শিক্ষকদেরও সাধারণ শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বলা হচ্ছে। বৃত্তিমূলক শাখার শিক্ষকদের সংগঠনের সেরকমই দাবি। এই বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে আপৎকালীন পরস্থিতি সামাল দিতে সংগঠন রাজিও আছে। কিন্তু তাঁদের আর্থিক বিষয়টি যাতে সরকার বিবেচনা করে পাশাপাশি সেই দাবিও উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত বৃত্তিমূলক শাখার শিক্ষকদের সংগঠন ভোকেশনাল এমপ্লয়িজ (টিচার্স, ট্রেনার্স অ্যান্ড স্টাফ) রাজ্য শাখার তরফে বিষয়টি নিয়ে তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের একটি শাখা সংগঠন হিসেবে এটি কাজ করে। ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া যাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলেন সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে প্রায় ২৬০০ স্কুল আছে, যেখানে সাধারণ শাখার কোর্সের সঙ্গে বৃত্তিমূলক শাখায় পড়াশোনা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রম রয়েছে সেখানে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকই বৃত্তিমূলক শাখার দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু বৃত্তিমূলক শাখার শিক্ষকরা সবাই চুক্তিতে নিযুক্ত। শিক্ষকদের তুলনায় অনেক কম বেতনে তাঁরা কাজ করেন। সংগঠনের রাজ্য শাখার সভাপতি বিনিময় দাস জানান, মাসিক ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা বেতনে শিক্ষকরা কাজ শুরু করেন। তারপর চুক্তিতে নিযুক্ত অন্যান্য কর্মীদের মতো বছরে ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি হয়।
সংগঠনের বক্তব্য, বৃত্তিমূলক শাখায় শিক্ষকের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৬ হাজার শিক্ষক অঙ্ক, বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি সহ সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যক্রমভুক্ত বিভিন্ন বিষয় পড়ান। বৃত্তিমূলক শাখার ছাত্রদের এই বিষয়গুলি পড়তে হয়। বেতন কম হলেও শিক্ষকদের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, বিএড ডিগ্রি আছে। এমনকী, বি-টেক, এম-টেক ডিগ্রিধারীরাও এখানে পড়ান। এতদিন সাধারণ শাখার শিক্ষকদের অনুপস্থিতি হলে মাঝে মধ্যে তাঁদের ওই শাখার ক্লাস নিতে হতো। কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের কথামতো সাধারণ শাখার অনেক ক্লাসসহ অন্যান্য দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে স্কুলগুলিতে পড়াশোনা যাতে স্বাভাবিক থাকে সেটা তাঁরা দেখবেন। কিন্তু তাঁদের আর্থিক বিষয়টিও সরকারের বিবেচনা করা উচিত।