রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: আরামবাগের খামারবেড়ে ভট্টাচার্যদের দেবী দুর্গা চতুর্ভুজা। রীতি মেনে সেখানে পুজো শেষে নাকখত দিয়ে দেবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন পরিবারের সদস্যরা। ৫০০বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজো এখনও একই নিয়মে হয়ে আসছে। ঢাকি থেকে প্রতিমাশিল্পী, পূজারী থেকে বৈষ্ণব বংশ পরম্পরায় খামারবেড়ের পুজোয় অংশ নেন। বিভিন্ন গ্রাম থেকেও সেই বাড়ির পুজো দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারের সদস্য কাজল ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা আগে খানাকুলের খামারগোড়ে থাকতেন। পরে সেখান থেকে আরামবাগের খামারবেড়ে আসেন ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যরা। আমাদের কূলদেবী বিশালাক্ষী মা স্বপ্ন দিয়েছিলেন দুর্গাপুজো করার জন্য। সেই থেকেই খামারবেড়ে গ্রামে আমরা পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে পুজো করি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, খামারবেড়ে গ্রামে ভট্টাচার্যদের কূলদেবী বিশালাক্ষী এখনও মাটির ঘরে বাস করেন। উপরে দেওয়া রয়েছে অ্যাসবেসটসের ছাউনি। তবে পাকা মন্দিরে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। তবে এখানে দেবী দুর্গা দশভুজা নন। চতুর্ভুজা রূপে পূজিতা হন। দেবীর হাতে থাকে ত্রিশুল, খড়্গ সহ একাধিক অস্ত্র। মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকেই দেবীর পুজো শুরু হয়ে যায়। ঘট তোলা হয়। একইসঙ্গে দুর্গার পাশে বিশালাক্ষী মা-ও পূজিতা হন। প্রতিপদের সন্ধ্যা থেকেই আটচালায় রামায়ণ গান শোনানো হয়। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন করেই মূল পুজো শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। তবে এখানকার পুজোয় তন্ত্রধারক থাকেন ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্যই। সপ্তমীতে দেবীর পুজোর পাশাপাশি পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। এছাড়া চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রীতিও রয়েছে। অষ্টমীর সন্ধিপুজোতেও পাঁঠা বলি হয়। সেই সময় আবার প্রত্যেককে জানানোর জন্য ফাটানো হয় বাজি। নবমীতে নিয়ম করে দু’টি পাঁঠা, আখ, কলা ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। ওইদিনই দেবীর কাছে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা হয়। সেই সময়ই দেবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাকখত দেন বাড়ির মহিলারা। মন্দিরের সামনে কাঁদতে কাঁদতে চলে নাকখত দেওয়ার পর্ব। দশমীতে বিজয়া করে দেবীর বিসর্জন দেন ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্যরা। একাদশীতে রামায়ণ গানের মাধ্যমেই শ্রীরামচন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করে পুরোহিত প্রত্যেকের মঙ্গল কামনায় দেবীর কাছে আশীর্বাদ চান।
ভট্টাচার্য বাড়ির আর এক সদস্য সোমনাথ ভট্টাচার্য বলেন, দেবী দুর্গার পুজোতে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে নাকখত দেওয়ার রীতি রয়েছে। আমাদের এই পুজোর জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি। কর্মসূত্রে বাইরে থাকা পরিবারের প্রত্যেক সদস্য পুজোতে হাজির হন। কয়েকটা দিন নানা অনুষ্ঠানে পুজো কাটে।