পূর্বাশা দাস: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি কেমন চলছে?
পূর্বাশা দাস: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি কেমন চলছে?
কোয়েল: মা দুর্গা আসছেন। এইটুকুতেই মন খুশিতে ভরে ওঠে। মা এসে সবার সবটা ভালো করেন। প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে।
মহিষাসুরমর্দিনী রূপে অভিনয় করতে আলাদা কোনও অনুভূতি হয়?
কোয়েল: আমার এবছর মহিষাসুরমর্দিনী রূপে হ্যাটট্রিক। যখনই মহিষাসুরমর্দিনী হয়ে পর্দায় আসি অন্তর থেকে একটা আলাদা শক্তি অনুভব করি। মনে হয় সেই শুভ শক্তি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। চারিদিকে সব অশুভর বিনাশ হোক। বিভিন্ন রকম চরিত্র করি কিন্তু এই চরিত্রটা আলাদা। মা দুর্গা তো স্বয়ংসম্পূর্ণা। প্রত্যেক নারীই দশভুজা।
মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজোর কোন বিশেষ রীতি, ঐতিহ্য আপনার সবথেকে পছন্দের?
কোয়েল: আমাদের মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজো এবার ১০১ বছরে পদার্পণ করল। বনেদি বাড়িতে যেভাবে পুজো হয় আমাদেরও সেই নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করা হয়। নির্ঘণ্টের দিকে খেয়াল রাখা হয়। পুজো মানেই ভোগ, নারকেল নাড়ু। পুজোর ক’টা দিন আমাদের বাড়িতে নিরামিষ খাওয়া হয়। বিসর্জনের পর আমরা আমিষ খাই। মেটে চচ্চড়ি রান্না হয়। এটা মল্লিক বাড়ির বিশেষত্ব। এই মেটে চচ্চড়ির স্বাদ অতুলনীয়।
আগের থেকে আপনার পুজো কতটা বদলেছে?
কোয়েল: এখন আমার সন্তানদের নিয়ে পরিবারের সঙ্গে পুজো কাটাই। আমার মনে হয় সন্তানরা মায়েদের দেখেই শেখে। পুজোর সময় মল্লিক বাড়িতে যাওয়ার জন্য আমি এতটাই অপেক্ষায় থাকি, আমার ছেলে কবীর এটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করে। আমার মেয়ের এবছর প্রথম পুজো। পুজোর সময় আমার বাবাও যেমন তাঁর ছোটবেলায় ফিরে যান, আমিও আমার ছোটবেলায় ফিরে যাই। তখন কোনদিন কোন জামা পরব, সেগুলো হিসেব করতাম। এখনকার বাচ্চারা সেই জিনিসগুলো বোঝে না। কিন্তু, আমি আমার সন্তানদের মধ্যে এই জিনিসটা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।
মা হিসেবে সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে মূলত কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেন?
কোয়েল: আমার দুই সন্তান এখনও খুব ছোট। আমি চেষ্টা করি যাতে ওদের ভবিষ্যৎটা খুব ভালো হয়। বর্তমানে ওদের খুব সুন্দর একটা পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ যেন করে দিতে পারি। আমি চাই ওরা সবার আগে খুব ভালো মানুষ হোক। তার জন্য সব রকম নেগেটিভিটি থেকে ওদের দূরে রাখি।
এই মুহূর্তে বাংলা ছবিতে জুটি নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। দেব-কোয়েল বা জিৎ-কোয়েল জুটির কামব্যাকের কোনও সম্ভাবনা রয়েছে?
কোয়েল: ভালো গল্প, চরিত্র পেলে অবশ্যই আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করব। আমিও অপেক্ষায় আছি।