Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাঁওতালির পর এবার কুড়মালি ভাষায় পঠনপাঠন শুরু হচ্ছে প্রাথমিক স্কুলে

সাঁওতালদের পর এবার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে কুর্মি সম্প্রদায়েরও। এ রাজ্যের কুর্মি অধ্যুষিত চার জেলার প্রাথমিক স্কুলে চালু হতে চলেছে কুড়মালি ভাষায় পড়াশোনা।

সাঁওতালির পর এবার কুড়মালি ভাষায় পঠনপাঠন শুরু হচ্ছে প্রাথমিক স্কুলে
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত  কলকাতা

Advertisement

সাঁওতালদের পর এবার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে কুর্মি সম্প্রদায়েরও। এ রাজ্যের কুর্মি অধ্যুষিত চার জেলার প্রাথমিক স্কুলে চালু হতে চলেছে কুড়মালি ভাষায় পড়াশোনা। এই জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। কুড়মালি জানা শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা নিয়ে কমিটি ওই ভাষায় সিলেবাস অনুবাদ করবে। পাঠ্যবইগুলিও বাংলা থেকে কুড়মালিতে অনুবাদ করবে কমিটি। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে কুড়মালিতে পঠনপাঠন শুরু হতে চলেছে।
কুর্মিদের বিভিন্ন সংগঠনের এই দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অলচিকি হরফে সাঁওতালি ভাষায় স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। তারপর কুর্মিদের তরফে এই দাবি আরও জোরাল হয়। সংখ্যালঘু মন্ত্রকের অধীন লিঙ্গুইস্টিক মাইনরিটিজ (পূর্বাঞ্চল)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের অফিসে দাবি জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রস্তাবটি যায় মুখ্যসচিবের কাছে। তারপর সর্বোচ্চস্তরে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর শিক্ষাদপ্তরের তরফে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরে যায় সম্মতিপত্র। সেই দপ্তরের মতামতও চেয়েছে শিক্ষাদপ্তর। এও বলা হয়েছে, সাঁওতালি ভাষায় পঠনপাঠন শুরুর সময় যে নীতি-নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল, এক্ষেত্রেও সেভাবেই এগতে চাইছে শিক্ষাদপ্তর।
আদিবাসী কুর্মি সমাজ সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত মাহাত শনিবার এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আমরা ধর্ম, ভাষার ভিত্তিতে যে পৃথক পরিচয়ের দাবিতে আন্দোলন করছি, তারই অন্যতম অংশ এটি। দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে এ নিয়ে দাবিপত্র পেশ করেছিলাম আমরা।’ অজিতবাবু জানান, কুড়মালির কোনও সরকার স্বীকৃত হরফ নেই। জয়ন্ত মাহাত, শশাঙ্কশেখর মাহাত বা স্বপন মাহাতদের তৈরি হরফে বিভিন্ন স্কুলে এখন পড়াশোনা হয়। অজিতবাবুরা চাইছেন, আপাতত অন্যান্য বিষয় চালু না করা গেলেও কুড়মালি ভাষাটি যাতে আগে শুরু করা যায়, তা দেখুক সরকার। যদিও, সরকার অবশ্য সমস্ত বিষয় নিয়েই পড়াশোনা শুরুর কথা ভাবছে।
এই মুহূর্তে পুরুলিয়ার সিধো কানহু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে কুড়মালি নিয়ে পড়াশোনা করা যায় বলে জানা গিয়েছে। কুর্মি সমাজের পরবর্তী লক্ষ্য, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকস্তরেও ভাষাটি চালু করা। অজিতবাবু জানান, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, আলিপুরদুয়ার এবং নদীয়ার বহু গ্রামে কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো সংখ্যায় রয়েছেন। তাই চারটি জেলা ছাড়াও যাতে এই জেলার কিছু স্কুলেও ভাষাটি চালু করা যায়, সেই চেষ্টা করছেন তাঁরা। এর জন্য স্থানীয়ভাবে অভিভাবকদের কাছে একটি দাবিপত্র তৈরি করে জমা দেওয়া হবে সংগঠনের তরফে। সেটা স্কুল ডিআইদের মাধ্যমে শিক্ষাদপ্তরে জমা করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ