নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীপান্বিতা অমাবস্যায় আজ, সোমবার উত্তর ২৪ পরগনায় বেলঘরিয়ার নন্দননগরে পোদ্দারবাড়িতে বিশেষ কালীপুজোর আয়োজন হবে। এখানে পাথরে তৈরি মূর্তির পুজো বছরভর ধরে চললেও, কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজো হয়। ১৭০ বছর পেরিয়েও সেই পুজোর জাঁকজমক এখনও অটুট। বিগত কয়েক দশক ধরে প্রস্তর মূর্তিতে পুজো হলেও, আগে মাটির প্রতিমা তৈরি করা হতো, জানালেন পরিবারের অন্যতম সদস্য টগরচন্দ্র পোদ্দার।
তাঁর কথায়, আমাদের পরিবারের শ্যামাপুজো শুরু হয় ১২৬৩ বঙ্গাব্দে, অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের পালং থানার অন্তর্গত ধানুকা গ্রামে। দেশভাগের পর যখন পরিবারের সদস্যরা এপার বাংলায় চলে আসেন, তখন ঠিকানা বদল হয় পুজোরও। ভারত স্বাধীন হওয়ার বছর, অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে সেই পুজোর আয়োজন করা হতো নদীয়ার শান্তিপুরে। পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে সেই পুজো চলে যায় উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এবং তারও পরে হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার কাঠলিয়ায় শুরু হয় পুজো। এরপর ১৩৯৬ বঙ্গাব্দে পিতা পরেশচন্দ্র পোদ্দার নন্দননগরে সেই পুজো চালু করেন বলে জানিয়েছেন টগরবাবু।
তিনি বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পর আমরা পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছি। আমাদের পুজোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য চালু ছিল এক সময়ে। প্রতি বছর বিজয়া দশমীতে মা দুর্গা যখন কৈলাসে পাড়ি দিতেন, তারপরের দিন, অর্থাৎ একাদশীতে, নিরঞ্জনের পর রাখা গতবারের কালীপ্রতিমার কাঠামোতেই নতুন মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হতো। সেই মূর্তির পুজো হতো দীপাবলিতে। মূর্তি রাখা হতো বছরভর। নিত্যপুজো হতো তখনও। সেই রীতি এখন বদলেছে, জানান টগরবাবু। তিনি বলেন, এখন মাটির প্রতিমা পুজো হয় না। এখন শ্যামা মায়ের প্রস্তুরমূর্তি তৈরি হয়েছে। সেই মূর্তিই এখন নিত্যপুজো পান আমাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। দীপাবলির অমাবস্যায় বিশেষ পুজো করি আমরা। এবারও সেই রীতিই পালন করা হবে। তবে আমাদের এই পারিবারিক পুজো ঘিরে এলাকাবাসীদের আবেগও যথেষ্ট। বহু মানুষ আসেন পুজোয়।