রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: প্রবাদ রয়েছে, রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। যার বাস্তবতাও রয়েছে। ৩৪ বছরের যে সিপিএমকে হারিয়ে ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, সেই লাল পার্টির সঙ্গে ২০২৬ সালে ‘হাত’ মেলাচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল। ফলে রাজনীতির ঘূর্ণায়মান যাত্রাপথে কে, কোন পদে, কে কার সঙ্গে— সবই সময়ের দলিলে ধরা পড়ে। সেই নিরিখে ক্লাব রাজনীতি হোক বা পুজোর মুখ্যআয়োজক, সেখানেও থাকে ‘যার যখন ক্ষমতা’প্রবাদটা! দক্ষিণ কলকাতার নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজোতেওএবার সেই ছবি। এখন যিনি ‘এলাকার প্রশাসক’, তিনিই পুজোর আয়োজনের মুখ্যকাণ্ডারীর ভূমিকায়।
বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে বলা যাক— নাকতলা উদয়ন সংঘ দুর্গাপুজোর মানচিত্রে শহর কলকাতার অতি পরিচিত নাম। দশভূজার আবাহনে প্রতি বছরই নতুন কিছু উপস্থাপন করে তারা। ফলে দর্শকদের কাছে বরাবর আকর্যণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে নাকতলা উদয়ন সংঘ। থিমের অভিনত্ব, প্রতিমার চাকচিক্যে নতুনের সন্ধান দেয় তারা। শহর কলকাতা তো বটেই, শহরতলি ও জেলার মানুষ সুযোগ পেলেই প্রতিবছর ঢুঁ দিয়ে আসেন নাকতলা উদয়ন সংঘে। এই পুজোর সঙ্গে একটা সময়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। তৃণমূলে যেমন একটা সময় ‘ওজনদার’ ছিলেন পার্থবাবু, তেমনই বছরের পর বছর নাকতলার পুজো পরিচিত ছিল‘পার্থ দা’র নামেই। প্রায় ১০ বছর পার্থ ছিলেন নাকতলা উদয়ন সংঘ পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। ২০২২ সালের ২৩ জুলাইনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন পার্থ। তারপর থেকেই নাকতলা উদয়ন সংঘের সঙ্গে পার্থর সম্পর্কে ছন্দপতন।
২০২৩ সাল নাগাদ নাকতলা উদয়ন সংঘে ‘এন্ট্রি’ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। টালিগঞ্জের বিধায়ক ছিলেন অরূপ। পার্থ পরবর্তী সময়ে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের এই পুজোর ‘হাল’ ধরেন অরূপ। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন বাড়িতেই আছেন। আর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে অরূপ বিশ্বাস রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে খানিকটা ‘দূরত্ব’ বাড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি আমলে এবার নাকতলা উদয়ন সংঘে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী নাকতলা উদয়ন সংঘের এবারের পুজোর মুখ্য উপদেষ্টা হয়েছেন। এই পুজো কমিটির সঙ্গে পাপিয়ার যাত্রা শুরু হচ্ছে বুধবার। প্রথমবার তিনি ক্লাবে আসবেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বার্তা দেবেন। পুজোর ব্যানার উদ্বোধন করবেন। জানা গিয়েছে, এবার নাকতলা উদয়ন সংঘের থিম ‘কালোধ্বনি’। পঞ্জিকা-সময়-কালের পরিপ্রেক্ষিতে ‘কালোধ্বনি’ সাজানো হচ্ছে। পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সন্দীপ দাশগুপ্ত বলেন, পাপিয়া অধিকারী অঞ্চলের বিধায়ক এবং অভিভাবক। একজন জনপ্রতিনিধি মাথার উপরে থাকার ফলে প্রশাসনিক দিক থেকে অনেক সুবিধা হয় এবং সবসময় পরামর্শ পাওয়া যায়।