পুরী: বিপত্তি কাটিতে শনিবার মাসির বাড়ি পৌঁছল পুরীর রথ। শুক্রবার যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই থামিয়ে দিতে হয় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ। শনিবার সকালে ফের যাত্রা শুরু হয়। এদিনই তিনটি রথ পৌঁছয় গুণ্ডিচা মন্দির। শনিবার রাতভর রথেই রাখা হয় ত্রিমূর্তিকে। আজ বিশেষ শোভাযাত্রা সহ জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি প্রবেশ করানো হবে মন্দিরের অন্দরে।
এবারের রথে চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থেকেছে পুরী। রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা অন্তত ৬০০জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এঁদের মধ্যে ২০০জন রাস্তার মাঝে অজ্ঞান হয়ে যান বলে খবর। সকলকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। প্রশাসনের অনুমান, রথ শুরু হতে অত্যধিক দেরি হওয়ায় এমন বিপত্তি। প্রথা মেনে সবার আগে মন্দির থেকে বের হয় বলরামের রথ। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই তা থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সুভদ্রা এবং জগন্নাথের রথও থেমে যায়। উল্লেখ্য, জগন্নাথের রথ মন্দিরের সামান্য দূরেই আটকে ছিল শুক্রবার সারারাত। প্রভুর সঙ্গে ভক্তরাও
রথের সামনে অপেক্ষা করেছেন রাতভর। এমনকী শনিবার গুণ্ডিচা মন্দিরে রথ পৌঁছলে সেখানেও রাতভর অপেক্ষা করেন অগুনতি ভক্ত। রথের দিন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। পরের দু’দিনও তাতে খামতি দেখা যায়নি। কয়েক হাজার পুলিসের পাহারায় সম্পন্ন হয়েছে দু’দিনের যাত্রা।
রথযাত্রায় অংশ নিতে পুরীতে হাজির হয়েছিলেন ওড়িশার আইনমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, ডিজিপি সহ প্রশাসনের শীর্ষপদের আধিকারিকরা। এঁরা সকলেই জগন্নাথের রথের রশিতে টান দেন। রথ উপলক্ষে পুরীতে গিয়েছিলেন ধনকুবের গৌতম আদানি। প্রশাসনের অনুমান, এবছর পুরীর রথযাত্রায় অংশ নিয়েছে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ। শনিবার পুরীতে ছিলেন পাঁচ লক্ষেরও বেশি। এদিন সকাল থেকেই আকাশ ছিল পরিষ্কার। পরে হালকা বৃষ্টি হলেও রথ এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষ সমস্যা হয়নি। আগামী ৫জুলাই জগন্নাথদেবের উল্টোরথ।