নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মোবাইল হাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলার আবদার। তা পূরণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে ছবি তোলার আগে খুদে রাজদীপ পালকে পড়াশোনায় মনযোগ দেওয়ার পরামর্শও দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘এই শেষবার। আর নয়।’ শনিবার রাতে হাওড়ার সালকিয়ায় চোরবাগান কাণ্ডে মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে বেরনোর সময় এই ঘটনাকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাত ৮টা নাগাদ কামিনী স্কুল লেনে বিকাশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শুভেন্দু। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল সালকিয়ার বাসিন্দা বিকাশ ভট্টাচার্যের। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারা পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। বিকাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইকে ওঠার সময় মুখ্যমন্ত্রীর দিকে ছুটে যায় রাজদীপ। আবদার করে, তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলবে। খুদের নাম জানতে চান শুভেন্দু। তারপরেই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত না থেকে পড়াশোনায় মনযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। আচমকা বকুনি শুনে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও রাজদীপের আবদার অবশ্য ফেরাননি তিনি। খুদেকে কাছে টেনে নিয়ে সেলফি তোলেন, আদরও করেন। তারপর বাইকে চেপে রওনা দেন। বাইক চালাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই।
শুধু রাজদীপ নয়, ফেরার পথে এক খুদে শিশুকে দেখে বাইক থামাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাইকে বসেই বছর তিনেকের শিশুকন্যার সঙ্গে কথা বলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে জানতে চান, পুজোয় ক’টি জামা হয়েছে, ক’টি ঠাকুর দেখেছে সে? আচমকা মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে হেসে উত্তর দেয় শিশুটি। এই দৃশ্য দেখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণে আপ্লুত শিশুটির পরিবার। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইলের প্রভাব নিয়ে আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ অনুষ্ঠানে মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে পরিবারেরও সজাগ থাকা প্রয়োজন। সালকিয়ায় তিনি সেই বার্তাই সরাসরি পৌঁছে দিলেন এক খুদের কাছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার শোকের আবহে দুই শিশুর সঙ্গে তাঁর এই কথোপকথন নজর কাড়ল এলাকার মানুষের।



