নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের পর পালানোর আগে বাবাকে ফোন করেছিল ঘোলার বাসিন্দা সেই গাড়িচালক। বলেছিল, ‘ওটাকে শেষ করে দিয়েছি। আমি চলে যাচ্ছি। তবে ছেলের কথা চিন্তা কর না। সে ভালো আছে।’ তারপর থেকেই তার মোবাইল ফোন সুইচড অফ শোনাচ্ছে। একথা শোনার পরও তার বৃদ্ধ বাবা কেন পুলিসকে জানালেন না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তাহলে কি এই খুনে মদত ছিল সুকান্তর পরিবারের? নাকি ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ছিলেন তাঁরা? তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখছে পুলিস। ঘোলা থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত গাড়িচালকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘোলার ৩ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের বটতলার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা নাথ (২৭) শনিবার রাতে খুন হন। খাটের নীচে থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর গলায় শ্বাসরোধের চিহ্নের পাশাপাশি দু’হাতের শিরা কাটা ছিল। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করে ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে স্বামী সুকান্ত নাথ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, স্ত্রীকে খুনের পর ঘোলার ওঙ্কার পার্কের বাড়িতে বাবাকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানিয়েছিল সুকান্ত। কিন্তু তার পরিবার সব জেনেও মুখে কুলুপ এঁটেছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ফলে সুকান্তর বাবাকেও সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা হচ্ছে না। অশান্তির জেরে প্রিয়াঙ্কা ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ায় বউমাকে ফেরাতে শ্বশুরই দৌত্য করেছিলেন। শ্বশুরের কথায়, গত বৃহস্পতিবার বাপের বাড়ি থেকে ঘোলায় স্বামীর বাড়িতে ফিরেছিল প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু সন্দেহবাতিক স্বামীর কাছে ফিরে তাঁকে যে এভাবে খুন হতে হবে, স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন সুকান্ত। কয়েক মাস আগে প্রিয়াঙ্কাদেবী ঘোলার এক পলিক্লিনিকে কাজে যোগ দেওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ে। ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার স্ত্রীর উপর নজরদারি চালাতে পলিক্লিনিকের উল্টোদিকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েছিল সুকান্ত। বিষয়টি প্রিয়াঙ্কা বুঝতে পেরে বাইকের ছবি মোবাইল ক্যামেরায় তুলেছিলেন। প্রতিবেশীদের থেকে পুলিস জেনেছে, অন্যান্য দিন ঝগড়ার আওয়াজ পেলেও শনিবার রাতের পর ওই বাড়ি থেকে আর কোনও আওয়াজ তাঁরা শোনেননি। এমনকী, রাত ১০টা নাগাদ দরজায় তালা লাগিয়ে সুকান্তকে একা বেরিয়ে যেতেও দেখেছিলেন কয়েকজন। অর্থাৎ তার আগেই ছেলেকে অন্য কোথাও সরিয়ে দিয়েছিল সে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, আগাম পরিকল্পনা ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে তথ্য পেতে অভিযুক্ত সুকান্তর বাবা সহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিস নিশ্চিত ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই গা ঢাকা দিয়েছে সুকান্ত।