পাটনা: জামুইয়ের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই একই ঘটনার সাক্ষী থাকল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য বিহার। এবারের ঘটনাস্থল সমস্তিপুর। সেখানে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার বন্ধুকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এখানেই শেষ নয়। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালানোর সময় ভিডিয়োটি পুলিশের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, পকসো ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়। ভিডিয়ো হাতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তাতে অবশ্য বিতর্ক থামছে না। কয়েক দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় প্রশ্নের মুখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। নারী সুরক্ষার বেহাল দশা নিয়ে সরব বিরোধীরাও। কর্পূরিগ্রাম থানার অন্তর্গত জগৎসিংপুর গ্রামের একটি বাঁধের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্ধুর সঙ্গে সেখানে ছবি তুলছিল ওই কিশোরী। তখনই সেখানে হাজির হয় কয়েকজন যুবক। কিশোরীর হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে অভিযুক্তরা। প্রতিবাদ করায় কিশোরীর বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপরেই কিশোরীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। শারীরিক হেনস্তার পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে অভিযুক্তরা। ঘটনার ভিডিয়ো করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা। বুধবার ভিডিয়োটি পুলিশের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে কর্পূরিগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুরু হয় তল্লাশি। ছ’ঘণ্টার মধ্যে চার অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বিকাশ কুমার শর্মা, রাহুল কুমার পাসোয়ান, রামবাবু সাহনি ও অবধেশ পাসোয়ান। সমস্তিপুরের এসপি অরবিন্দ প্রতাপ সিং জানান, ভিডিয়োটি প্রায় এক সপ্তাহ পুরানো বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জগৎসিংপুর গ্রামের একটি বাঁধের কাছে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’ গত ১৯ সেপ্টেম্বর জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার বন্ধুকে একইভাবে হেনস্তা করে কয়েকজন যুবক। ‘নীতি পুলিশি’র অছিলায় কিশোরীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। একই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধীরা। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝার তোপ, ‘প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছি, এই রাজ্যের কী নাম দেওয়া উচিত? নির্বাচনি সভায় গিয়ে আপনি পুরানো রূপকথা শোনান। হাতে লেখা চিত্রনাট্য দেখে বক্তব্য রাখেন। এবার অন্তত কথা বলুন।’



