বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ভাইরাল অসুখে অ্যালোপ্যাথির সীমাবদ্ধতা প্রবাদপ্রতিম। বিশেষত ভাইরাসঘটিত অ্যাকিউট বা জীবনমরণ সমস্যার রোগে। যেমন ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস এ, ই ইত্যাদি। আবার হেপাটাইটিস বি, সি, এইচআইভির মতো রোগে দুরন্ত অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ বেরিয়ে যাওয়ায় মানবসভ্যতা এসব রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের হাতিয়ার পেয়েছে। মডার্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাঁদের চিকিৎসাশাস্ত্রের বেশিরভাগ দাপট ব্যাকটেরিয়াঘটিত অসুখবিসুখের ক্ষেত্রেই। তাতে এখন বাধ সেধেছে স্বেচ্ছাচারী ব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া মারণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। সেখানে দিনরাত অ্যালোপ্যাথির দুয়ো সহ্য করা হোমিওপ্যাথিই লাগাতার কামাল করছে ভাইরাল ডিজিজেই।
স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষণায় জাপানিজ এনসেফেলাইটিসে কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হিসেবে উঠে এসেছে বেলেডোনার নাম। বরানগরস্থিত কেন্দ্রীয় ভাইরাস গবেষণা সংস্থা ডাঃ অঞ্জলি চট্টোপাধ্যায় রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথির ডেঙ্গু নিয়ে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে আর এক কার্যকর ওষুধ। নাম ইউপেটোরিয়াম। করোনাকালে দেখা গেল, কোভিড প্রতিরোধে এবং রোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া কমাতে অসম্ভব ভালো কাজ করছে আর্সেনিক অ্যালবা।
এবার সেই ডাঃ অঞ্জলি চট্টোপাধ্যায় রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথিই উত্তর খুঁজে পেল মশাবাহিত ভাইরাল অসুখ চিকুনগুনিয়ার। গবেষকদের দাবি, ডেঙ্গুর মতোই চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রেও ভালো কাজ দিচ্ছে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ইউপেটোরিয়াম পারফোলিয়েটাম। প্রতিষ্ঠানের ভাইরোলজি ল্যাবের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর তথা বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ শতদল দাস ছাড়াও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন হোমিওপ্যাথির শীর্ষ গবেষণা সংস্থা সিসিআরএইচ-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডাঃ সুভাষ কৌশিক। ছিলেন ডাঃ দেবব্রত নায়েক, ডাঃ অভীপ্সা সরকার সহ ন’জন। বিশ্বের অন্যতম নামকরা বিজ্ঞান গবেষণা ‘জার্নাল স্প্রিঙ্গার নেচার’ গোষ্ঠীর অ্যাপ্লায়েড বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি শীর্ষক পত্রিকায় সদ্য (২০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে এটি।
ঠিক কী মিলেছে গবেষণায়? ‘মাইস মডেল’-এ গত এক বছর ধরে হয় গবেষণাটি। দু’টি ভাগে ভাগ করে একদল ইঁদুরকে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে সংক্রমিত করা হয়। দেখা হয়, রোগের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে তাদের শরীরে। গুটিয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে তাদের শরীর। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কালক্রমে মারা যাচ্ছে। সংক্রামিত ইঁদুরগুলির হাড়ের জোর বা জয়েন্টগুলির হিস্টোপ্যাথোলজি পরীক্ষা করেন গবেষকরা। দেখা যায়, জয়েন্টগুলি অসম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এক দল ইঁদুরকে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে সংক্রামিত করবার পাশাপাশি তাদের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ইউপেটোরিয়াম পারফোলিয়েটাম দেওয়া হয়। অন্যতম গবেষক শতদলবাবু বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওষুধ খাওয়ানো ইঁদুরগুলির মধ্যে কোনও প্রভাবই দেখা যায়নি চিকুনগুনিয়ার। আমরা ওদের ৬ সি পোটেন্সির ইউপেটোরিয়াম দিয়েছিলাম। হিউম্যান ট্রায়ালে ২০০ পোটেন্সি দেওয়া হতে পারে।’