নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কাল, সোমবার ইংলিশবাজার পুরসভায় আসার কথা অম্লান ভাদুড়ির। পুর প্রধানের চেয়ারে বসে পুরসভার অচলাবস্থা কাটানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লানের। শহরের যানজট মোকাবিলার পাশাপাশি অবৈধ বিল্ডিং নিয়ে নয়া পুর প্রধান কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল। আটকে থাকা মিউটেশন চালু করতে নতুন চেয়ারম্যান কত দ্রুত পদক্ষেপ করেন এবং সেক্ষেত্রে ডেভেলপমেন্ট ফি’র নামে পুরসভার মোটা টাকা নেওয়া বন্ধ হয় কিনা, এখন তা দেখতে চাইছেন শহরের বাসিন্দারা।
এর আগে ইংলিশবাজার পুরসভায় মিউটেশন ফি’র সঙ্গে গিফট ডিডের ক্ষেত্রে টোটাল ভ্যালুয়েশনের উপর ১ শতাংশ, পারচেজ ডিডের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এবং কমার্শিয়ালের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ ডেভেলপমেন্ট ফি আদায় করা হত। যা নিয়ে পুরসভার বর্তমান এগজিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে বোর্ডের এবং বন্ধ হয়ে যায় মিউটেশন। নয়া পুর প্রধান চেয়ারে বসার পর জট কাটিয়ে কবে থেকে ফের মিউটেশন চালু হয়, এখন সেটাই দেখার।
এদিকে ইংলিশবাজার পুরসভায় তৃণমূল বোর্ডের আমলে বিভিন্ন বাজার থেকে কনজারভেন্সি চার্জ বাবদ ইচ্ছেমতো টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে আপত্তি জানায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। নয়া চেয়ারম্যানের আমলে বাজার থেকে ইচ্ছেমতো কনজারভেন্সি চার্জ নেওয়া বন্ধ হবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় শহরের ব্যবসায়ীরা।
মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, ব্যবসায়ীরা সম্পত্তিকর দেন। ফলে তাঁরা নতুন করে কনজারভেন্সি চার্জের নামে কোনো টাকা দিতে পারবেন না। নতুন চেয়ারম্যানকে বলা হবে। সেইসঙ্গে ইংলিশবাজার শহরে পুরসভা পরিচালিত বাজারগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। বেহাল পরিকাঠামোর পাশাপাশি পানীয় জল, শৌচালয়, পার্কিংয়ের অভাব রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান এনিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের আশা। রেগুলেটেড মার্কেটের অবস্থাও শোচনীয়।
অভিযোগ, ইংলিশবাজার শহরের প্রচুর বেআইনি বিল্ডিং থাকলেও সেগুলির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড। এবার বিজেপির পুর প্রধান শহরের অবৈধ বিল্ডিং নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেবেন, এমনটাই আশা বাসিন্দাদের। বেআইনি বিল্ডিং নিয়ে তিনি যে পদক্ষেপ করবেন, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন অম্লান ভাদুড়ি। সেইসঙ্গে মানুষের উপর চাপানো অপ্রয়োজনীয় ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে নিজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে পুরসভা চালানো মুশকিল বলে মনে করেন বর্তমানে নির্দল কাউন্সিলার হিসাবে ঘোষণা করা (তৃণমূলের টিকিটে জেতা) শুভময় বসু।



