দুবাই: দিনভর নাটকের পর অবশেষে জট খুলল ম্যাচ শুরুর আধ ঘণ্টা আগে। ম্যাচ রেফারি পাইক্রফটকে সরানোর দাবি জানিয়ে আইসিসি’কে চিঠি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, দাবি না মানা হলে টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নেবে পাকিস্তান। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা পাক ক্রিকেট বোর্ডের চোখ রাঙানিকে পাত্তাই দেয়নি। জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি জানিয়ে দেয়, পাইক্রফটকে সরানো হবে না। বুধবার পাকিস্তান-আমিরশাহি ম্যাচে তিনিই দায়িত্বে থাকবেন।
এতেই গোঁসা হয় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির। তিনি টিম ম্যানেজমেন্টকে বলেন, যতক্ষণ না নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ ক্রিকেটাররা হোটেলেই থাকবে। কিছু ক্রিকেটার ভুল করে টিম বাসে উঠে পড়েছিলেন। তাঁদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয় হোটেলে। রটে যায়, পাকিস্তান খেলবে না আমিরশাহির বিরুদ্ধে। মরণ-বাঁচন ম্যাচ না খেলা মানে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত।
দুবাই যখন সরগরম, তখন মহসিন নাকভি দেশের মাটিতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে। তারপর আইসিসি’কে নতুন করে রফার প্রস্তাব পাঠায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বলা হয়, আপাতত পাইক্রফটকে সরাতে হবে না। তবে পাক দলের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে। কারণ, রবিবার হ্যান্ডশেক বিতর্কের নাটের গুরু ম্যাচ রেফারিই। তিনি সূর্যকুমার যাদব এবং আগাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, করমর্দন না করার। পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলা হতে দেখে কিছুটা নমনীয় হয় আইসিসি। তাই পিসিবি’র শেষ প্রস্তাবে রাজি হয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। আইসিসি’র পদক্ষেপের পর পিসিবি’র বার্তা যায় পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা হোটেল থেকে টিম বাস রওনা হয় স্টেডিয়ামের উদ্দেশে। তবে নাটকের জেরে ম্যাচ পিছিয়ে যায় এক ঘণ্টা।
এই প্রসঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বলেন, ‘রবিবারের ঘটনা নিয়ে দলের কোচ, অধিনায়ক ও ম্যানেজারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন পাইক্রফট। তিনি স্বীকার করেছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর যেটা ঘটেছে, তা অনুচিত। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত করার জন্য আইসিসি’র কাছে পূর্ণ তদন্ত করারও দাবি জানিয়েছি। আমরা কখনও ক্রিকেট ও রাজনীতি এক করতে চাই না।’