Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪৮ দিন লড়াইয়ের পর জীবন্মৃত প্রসূতি স্থিতিশীল, অসাধ্য সাধন মেডিক্যালে

কিডনি কাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা যেখানে ০.১ থেকে ১.২ হওয়া উচিত, তা বেড়ে ৩৬! প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারেরও নীচে নেমে গিয়েছে।

৪৮ দিন লড়াইয়ের পর জীবন্মৃত প্রসূতি  স্থিতিশীল, অসাধ্য সাধন মেডিক্যালে
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিডনি কাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা যেখানে ০.১ থেকে ১.২ হওয়া উচিত, তা বেড়ে ৩৬! প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ‘জীবন্মৃত’ অবস্থায় চলে যাওয়া হাওড়ার এক প্রসূতিকে নতুন জীবন দিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। 

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রের খবর, বাগনানের বাসিন্দা ২৮ বছরের ওই প্রসূতিকে ১১ জুলাই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ছিল রেনাল শাট ডাউন। তারমধ্যে সেপটিসেমিয়া হওয়ায় জীবন সংকট তৈরি হয়েছিল সুমনা মৈনান নামের ওই প্রসূতির। মেডিক্যালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার প্রধান ডাঃ তপনকুমার নস্কর এবং সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মনামী রায়ের ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাঁকে। 
ভর্তির সময় বোঝা যায়, তাঁর গর্ভস্থ শিশুটি মৃত। রক্তের চাপ কম, একদিনের উপর ইউরিন বন্ধ, সঙ্গে জন্ডিস, হার্টের সমস্যা— সব মিলিয়ে প্রাণ সংশয় ছিল সুমনার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে পাঠানো হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মায়ের প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা মৃত সন্তানকে নর্মাল ডেলিভারি করে বের করে আনেন। তারপর ২৭ দিন ধরে সিসিইউতে চলে লড়াই। লিভার, কিডনি স্বাভাবিক কাজ করছিল না। অন্তত ১০ বার ডায়ালিসিস করা হয়। বারবার রক্ত দিতে হয়। সাতদফা হিমোডায়ালিসিসের পর রোগিণী চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করেন। শেষ হিমোডায়ালিসিস হয় ২৬ জুলাই। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। ৪৮ দিনের লড়াই শেষে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিলিরুবিন ও ক্রিয়াটিনিনের  মাত্রাও বিপদসীমার নীচে নেমে এসেছে। ফলে সুমনা এখন বিপন্মুক্ত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ