নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটার তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বিচারাধীন রয়েছে। তাঁরাও আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। এই অবস্থায় ভোটার তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর এসআইআর আতঙ্কে সাতজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। মারা গিয়েছেন ডেবরায় বাসিন্দা কৃষ্ণ পাল, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে, হরিশচন্দ্রপুরের বাসিন্দা হাজেরা বিবি, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা মহম্মদ তাহির, সিউরির শেখ কামরুল, লালবাগের বাসিন্দা আবদুল শেখ, মগরাহাটের বাসিন্দা রফিক আলি গাজি। এছাড়া ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন পানিহাটির বাসিন্দা সাধনা মজুমদার। এসব ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত এসআইআর’কে দায়ী করেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি ও কমিশনের যৌথ পরিকল্পনাতেই বাংলার মানুষের ভোটাধিকার আজ প্রশ্নের মুখে। এই অবস্থায় বাংলার মানুষের স্বার্থে ফের পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ মার্চ, শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা-অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বুধবার তৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘বাংলা বিরোধী বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের এক গভীর চক্রান্ত। অপরিকল্পিত এসআইআর নামে বাংলার বুকে গণতন্ত্র হত্যার নির্লজ্জ প্রয়াস। ওরা কেড়ে নিতে চায় আপনার-আমার বাংলার বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার। কিন্তু বাংলা কোনোদিন মাথা নত করেনি, আগামীতেও করবে না। স্বৈরাচারী চক্রান্তের বিরুদ্ধে ও মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে আবারও পথে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার। ৬ মার্চ ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে দলে দলে আসুন। নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষা করাই আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার।’ মমতার এই কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে। জোরকদমে চলছে ধর্মতলায় মমতার ধরনা কর্মসূচির প্রস্তুতি। মঞ্চ বাঁধা, আলো, মাইকের ব্যবস্থা শেষমুহূর্তে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে আসবেন বলেই খবর। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন মমতার ধরনা কর্মসূচি শুধুমাত্র ৬ মার্চ থাকবে, নাকি বাড়তে পারে তা নিয়ে। সেটা শুক্রবারের মঞ্চ থেকেই দলের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তৃণমূল নেত্রী।



