ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাজর’ ঝুলিয়ে গত ১২ বছরে বিজেপি পার করেছে কয়েকটি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন। এবারের ভোটে অবশ্য সেই সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কথা শোনা যাচ্ছে না পদ্ম পার্টির নেতাদের মুখে। পরিবর্তে উত্তরের ভোট বৈতরণী পার হতে এবার আইআইটির ‘টোপ’ গেরুয়া শিবিরের। সঙ্গে ভোটের ময়দানে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ফ্যাশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গড়ার ‘স্বপ্ন’ ফেরি করছেন বিজেপি নেতারা।
যদিও এসব পদ্ম পার্টির ‘জুমলা’, তোপ জোড়াফুল শিবিরের। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, সবটাই খুড়োর কল। বিজেপি ভোটের আগে একরকম কথা বলে, ভোট মিটলেই আবার অন্যরকম। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, দেশের মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা ঢুকবে। কিন্তু ১৫ পয়সাও ঢোকেনি। উত্তরবঙ্গের মানুষকেও তেমন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চা বাগান অধিগ্রহণ, এইমসের নাম করে ধোঁকা দিয়েছে পদ্ম শিবির। উত্তরের বাসিন্দারা বিজেপির ভাঁওতাবাজি বুঝে গিয়েছেন।
গত এক যুগ ধরে প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাসকে সামনে রেখে বিজেপি প্রচার চালালেও এবার তা ‘গায়েব’ হয়ে গেল কেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সেই সঙ্গে কেন এতদিনে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি তৈরি করা গেল না, প্রচারে নেমে এই প্রশ্নে বিদ্ধ হতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে।
তাহলে কি উত্তরে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাস ভুলছে বিজেপি? গেরুয়া শিবিরের জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের সাফাই, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি ভোলার কিছু নেই। বিষয়টি সংসদেও তোলা হয়েছে। আসলে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারলে আটকে থাকা অনেক কাজ করা সম্ভব।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই উত্তরে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাস দেওয়া শুরু করে বিজেপি। সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া দার্জিলিংয়ের এমপি হওয়ার পর প্রচার করতে থাকেন, পাহাড়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হবে। আলুওয়ালিয়ার পর বিজেপির রাজু বিস্তা দার্জিলিংয়ের এমপি হয়েছেন। বার কয়েক তাঁর মুখেও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা শোনা গিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভোটের ময়দানে অবশ্য এনিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছেন না দার্জিলিংয়ের পদ্ম সাংসদ। কিন্তু কেন? রাজু বিস্তার দাবি, কে বলল আমরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভুলে গিয়েছি? কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত ১১ মার্চ এ ব্যাপারে আমাকে চিঠি দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের অবশ্য দাবি, দার্জিলিংয়ে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা তো হয়েই গিয়েছে। সেকারণে এটা নিয়ে সংকল্পপত্রে উল্লেখ করার কিছু নেই। পরিকল্পনা নেওয়ার কথা তো এক যুগ ধরে বলা হচ্ছে, কিন্তু উত্তরবঙ্গে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হবে কবে? অরুণের জবাব, রাজ্যের সহযোগিতা না মেলায় হচ্ছে না।
বিজেপির জলপাইগুড়ির সাংসদের দাবি, দলের সংকল্পপত্রে এইমস, আইআইটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) ও ফ্যাশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের কথা বলা হয়েছে। উত্তরের চার জেলায় চারটি হবে। তবে কোন জেলায় কোনটি হবে, সেসব যে কিছুই ঠিক হয়নি, তা মেনে নিয়েছেন তিনি।