নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লি, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে হরিয়ানা—রাজ্য সরকারের তদন্ত যতই এগিয়েছে ততই সামনে এসেছে জাল ওষুধের ‘জাল’ ছড়িয়েছে অনেক দূর। এবার পশ্চিমবঙ্গের ওষুধ ব্যবসায়ীদের ভিন রাজ্য থেকে ওষুধ কেনার বিষয়ে সতর্ক করল ড্রাগ কন্ট্রোল। নবান্নের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যদপ্তর শুক্রবার জারি করল ‘অ্যাডভাইজারি’। সেখানে সাফ সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে ওষুধ কেনার সময় রাজ্যের ব্যবসায়ীদের কী কী সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
তাতে বলা হয়েছে, প্রথমত কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মোতাবেক ৩০০টি দরকারি ওষুধের কিউ আর কোড দিয়েছে নির্মাতা সংস্থাগুলি। ভিন রাজ্যের ওষুধ কেনার সময় ওই ৩০০টি ওষুধের তালিকাভুক্ত হলে, অবশ্যই কিউ আর কোড যাচাই করে অগ্রসর হতে হবে। বাংলার পাইকারি এবং খুচরো, দুই ধরনের ব্যবসায়ীদেরই এই নিয়ম মানতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভিন রাজ্যের যে পাইকারি দোকান থেকে কিনতে অগ্রসর হচ্ছেন বাংলার ওষুধ ব্যবসায়ীরা, সেই সংস্থার জিএসটি নম্বর আছে কি না এবং তারা জিএসটির নিয়ম মেনে ব্যবসা করে কি না, তা দেখা উচিত। তৃতীয়ত, যে সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায় নামছে ভিন রাজ্যের সেই ব্যবসায়ী বা সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে কি না এবং থাকলেও সংস্থার নামে আছে কি না, সেটাও দেখা জরুরি। চতুর্থত, ভিন রাজ্যের বিক্রেতার লাইসেন্সের মেয়াদ যাচাই করে নিতে হবে। প্রতিটি রাজ্যেরই অনলাইন লাইসেন্স যাচাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইট আছে। যাচাই করবার পাশাপাশি সেই লাইসেন্সের বিস্তারিত তথ্য রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলকে পাঠাতে হবে। ড্রাগ কন্ট্রোলও যাচাই করে দেখবে। পঞ্চমত, মূল কোম্পানির ক্যারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট ভায়া আইনসিদ্ধ সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা ওষুধ বিক্রি করছে কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বরের ১৩৬টি দরকারি ওষুধ ‘রি-কল’ করল স্বাস্থ্যভবন। এই তালিকায় জ্বর, পেট খারাপ, অ্যালার্জি, প্রেশার, মারাত্মক সংক্রমণ ইত্যাদি রয়েছে। নিম্নমানের এই ওষুধগুলি ছাড়াও অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ননড্রোলোনা নামের নির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বরের একটি স্টেরয়েড় ইঞ্জেকশন ‘ভেজাল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।