Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অন্নপূর্ণায় বঞ্চিতদের বিজেপি অফিসে আসার ‘পরামর্শ’, বিতর্ক শহরতলিতে

রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ছে। গ্রাম কিংবা শহরের বহু যোগ্য প্রাপক ওই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

অন্নপূর্ণায় বঞ্চিতদের বিজেপি অফিসে আসার ‘পরামর্শ’, বিতর্ক শহরতলিতে
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ছে। গ্রাম কিংবা শহরের বহু যোগ্য প্রাপক ওই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। অথচ, সরকারি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী পরিবারের মহিলাদের নাম ওই তালিকায় থাকার দাবি উঠছে। এই আবহে উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ‘বঞ্চিত’ ও ক্ষুব্ধ মহিলাদের বার্তা দিচ্ছেন, ‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ নেতানেত্রীরা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করছেন, ‘যাঁরা অন্নপূর্ণার টাকা পাননি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও অন্যান্য নথি নিয়ে দ্রুত আমাদের কাছে আসুন। জেলা সভাপতির নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ ‘আমাদের কাছে আসা’র অর্থ একটাই—সরকারি প্রকল্প হতে পারে, কিন্তু পার্টি অফিস থেকে সে ব্যাপারে ‘সহযোগিতা’ করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্যুতে শহরতলি এলাকায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

Advertisement

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা যোজনা—বাংলায় বিধানসভা ভোটে এটাই ছিল অন্যতম ভোটের ইস্যু। পালাবদলের পর তাই তড়িঘড়ি অন্নপূর্ণা চালু করেছেন বিজেপি সরকার। সঙ্গে চলেছে যাচাই প্রক্রিয়া। কিন্তু বিক্ষোভ চাপা দেওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের পর নতুন করে অন্নপূর্ণার টাকা চালু হলেও ক্ষোভের আঁচ আরও বাড়ছে। বরানগর, দক্ষিণ দমদম সহ শহরতলির প্রতিটি পুরসভায় ক্ষুব্ধ মহিলাদের ভিড় বাড়ছে। উত্তর দমদম পুরসভা লাগোয়া বিরাটি স্টেশনে ট্রেন অবরোধও হয়েছিল। তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এই ক্ষোভের বিষয়ে বিলক্ষণ জানেন বিজেপি নেতৃত্ব। পুজোর পর শহরতলিজুড়ে পুরভোট রয়েছে। তার আগে মহিলাদের ক্ষোভ কমানো না গেলে শিয়রে বিপদ। সূত্রের খবর, বিজেপি জেলা সভাপতির নেতৃত্বে শহরতলির দলের নেতানেত্রীরা সমাজমাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে পোস্ট করছেন। বলা হচ্ছে, যেসব মাতৃশক্তি এখনও অন্নপূর্ণার টাকা পাননি, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নাম, মোবাইল নম্বর, আধার কার্ড, ব্যাংকের পাশ বইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি এবং আগে অন্নপূর্ণা প্রকল্পে আবেদন করে থাকলে তার সিরিয়াল নম্বর ও অনান্য তথ্য সহ। ওইসব পোস্টে উপচে পড়ছে ‘বঞ্চিত মহিলা’দের কমেন্ট। তবে ইতিমধ্যেই বরানগরের মতো বেশ কিছু জায়গায় ক্যাম্প করে এসব তথ্য জমা নিচ্ছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। আর বাড়ছে বিতর্ক। কেন সরকারি প্রকল্পের কাজ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে করা হচ্ছে? ব্যাংক ও আধারের তথ্য প্রতারকদের হাতে গেলে দায় কে নেবে? সরকারি ভাতা পেতে কেন রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হতে হবে? এমন নানান প্রশ্নে শহরতলি সরগরম। বরানগরের তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘গরিব মহিলারা ভাতা পাচ্ছেন না। অথচ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বা ব্যবসায়ীর স্ত্রী পাচ্ছেন। সর্বত্র এই সমস্যা। প্রশাসনের সমস্যা সমাধান করা উচিত। তা না করে রাজনৈতিক দলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। দলতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা চলছে।’ বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পেতে সহায়তা করা রাজনৈতিক দলের কাজ। দলের তরফে অন্নপূর্ণা যোজনা না পাওয়া মহিলাদের তথ্য-প্রমাণ তালিকাবদ্ধ করে প্রশাসনের হাতে তুলে দিলে সমস্যা কোথায়?’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ