নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও রাস্তাজুড়ে এখনও রয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর লাইটিংয়ের জন্য লাগানো বাঁশের স্ট্রাকচার। কোথাও আবার এখনও খেলার মাঠ আটকে রেখেছে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। পুজো সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন খুলে ফেলা হলেও তার জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো শহরের বহু জায়গায় এখনও চোখে পড়ছে। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর ছবি যত্রতত্র। রাস্তা আটকে পড়ে থাকা প্যান্ডেলের বাঁশ বা আস্ত স্ট্রাকচার সমস্যায় ফেলছে মানুষকে। গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই এবার বিজ্ঞাপনের জন্য রাস্তার ধারে লাগানো বাঁশের কাঠামো না খোলার শাস্তি হিসাবে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলিকে মোটা টাকা জরিমানা করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এমন ১৫০টি পুজো কমিটিকে জরিমানার চিঠি ধরানো হচ্ছে বলে খবর।
গত কয়েক বছর ধরেই দুর্গাপুজোর বিজ্ঞাপন নিয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে এই প্রথমে ৯৬২টি পুজো কমিটি এবং বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাকে পুজোর বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ছাড়পত্র (এনওসি) দিয়েছিল পুরসভা। কিন্তু বলে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন খুলে ফেলতে হবে। সেই মতো অনেকেই বিজ্ঞাপন খুলে ফেলেছে। আবার বহু জায়গায় লোক লাগিয়ে সেসব খোলাতে হয়েছে পুরসভাকে। পুজোকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং, ব্যানার বা ফ্লেক্স খুলে ফেলা হলেও বাঁশের কাঠামো বহু জায়গাতেই রয়ে গিয়েছে। সেসব খুলতেও পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ লোক নামিয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে শহরের সর্বত্র এই ধরনের বাঁশের কাঠামো এখনও খোলা যায়নি। এই অবস্থায় যেসব পুজো কমিটি বাঁশের স্ট্রাকচার খোলেনি, তাদের তালিকা তৈরি করেছেন পুরকর্তারা। তাঁদের মোটা টাকা জরিমানা করা হবে। বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পুজো সংক্রান্ত অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের ফ্লেক্স-ব্যানার কিংবা হোর্ডিংয়ের জন্য পুরসভা বিজ্ঞাপন ফি মকুব করেছিল। একমাত্র ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ফি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও শর্ত মানেনি পুজা কমিটিগুলি। তাই বিজ্ঞাপন ফির তুলনায় তিনগুণ টাকা জরিমানা নেওয়া হবে। প্রত্যেকের নামে নোটিস তৈরি হচ্ছে। প্রতি বর্গফুটে ৯০ টাকা ধরে জরিমানা নেওয়া হবে। যার যত বেশি জায়গা নিয়ে বিজ্ঞাপন, সেই পুজো কমিটি বা বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাকে তত বেশি টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
এদিকে, শহরের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন পটারি রোড, কুমোরটুলি পার্ক, কেন্দুয়া, পাটুলি, দেশপ্রিয় পার্ক, জগৎ মুখার্জি পার্কসহ বিভিন্ন পার্ক এবং রাস্তায় এখনও দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। পটারি রোডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমনিতেই অপরিসর রাস্তা। তার উপর এখনও পুজোর বাঁশ রাস্তায় রয়েছে। রাস্তা আরও ছোটো হয়ে গিয়েছে। গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হয়। গলির রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়। কাকে কী বলব!’



