Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোর নাম ছাড়াই রাস্তার ডিভাইডারে বিজ্ঞাপন

শিয়ালদহে এনআরএস হাসপাতালের সামনে থেকে মৌলালি পর্যন্ত এজেসি বোস রোডের ডিভাইডারে বাঁধা রয়েছে বাঁশের কাঠামো।

পুজোর নাম ছাড়াই রাস্তার ডিভাইডারে বিজ্ঞাপন
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়ালদহে এনআরএস হাসপাতালের সামনে থেকে মৌলালি পর্যন্ত এজেসি বোস রোডের ডিভাইডারে বাঁধা রয়েছে বাঁশের কাঠামো। হাসপাতালের সামনে থেকে মৌলালির দিকে এগলেই একটি জায়গায় ডিভাইডারে লাগানো হয়েছে সুরি লেনের সংঘমিলনী  ক্লাবের পুজোর ব্যানার। আরেকটু এগলেই আর আহমেদ ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের সামনে ডিভাইডারে বড় বড় করে লাগানো হয়েছে সিনেমার ব্যানার। লেক মলের সামনেও রাস্তার ডিভাইডারে একই ছবি। কিন্তু পুরসভার নতুন বিজ্ঞাপন নীতি অনুসারে এ বছর থেকে শহরের কোনও রাস্তার ডিভাইডারে পুজোকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না।  সেখানে কীভাবে এই বিজ্ঞাপন লাগানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

শুধু এই একটি বা দু’টি ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গ নয়, শহরজুড়ে রাস্তার ধারে রেলিংয়ে বাঁশের কাঠামো গড়ে যে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগানো হয়েছে, সেখানেও হয়েছে অনিয়ম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনী ব্যানার-হোর্ডিংয়ে পুর-নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নাম লেখা নেই। গড়িয়াহাট ব্রিজের দু’ধারে বিপজ্জনকভাবে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে লাগানো হয়েছে পুজোর বিজ্ঞাপন। দমকা হওয়ায় যদি সেই বিজ্ঞাপন ভেঙে নীচে পড়ে, তাহলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু, পুর-প্রশাসনের সেদিকে কোনও খেয়াল নেই বলে অভিযোগ।  
এবার পুজোয় রাস্তার ডিভাইডার, দু’টি লেনের মধ্যে থাকা রেলিং বা মিডিয়ান স্ট্রিপে বিজ্ঞাপনের কোনও হোর্ডিং লাগানো যাবে না বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেকটি ব্যানার বা হোর্ডিংয়ে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নাম থাকা যে বাধ্যতামূলক, তা আগেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থাকে জানিয়েছিল পুরসভা। পুজোর আগে বিজ্ঞাপন বিভাগের অফিসারদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকও করেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। কোনও পুজো কমিটি বা বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা এরপরও নিয়ম না মেনে হোর্ডিং-ব্যানার লাগালে তা বেআইনি বলে গণ্য করে পুরসভা ভেঙে দেবে বলে জানিয়েছে। কারণ, রাস্তার মাঝে বিজ্ঞাপন লাগানোর কাঠামো তৈরি হলে চালক, পথচারীদের ট্রাফিক সিগন্যাল লক্ষ্য করতে সমস্যা হয়। পুজোর সময় মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সামলাতে হয় পুলিশকে। মূলত ট্রাফিক সিগন্যালের সমস্যার কারণেই ডিভাইডারে কোনও বিজ্ঞাপন লাগানোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, পুজোর শহরে যত্রতত্র অবৈধ বিজ্ঞাপন রুখতেই বিজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নাম থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। না হলে সেই বিজ্ঞাপনও বেআইনি বলে গণ্য করে নষ্ট করে দেবে পুরসভা। পুজোর সময়ের বিজ্ঞাপনে সরকার যে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, মিলবে না সেই ছাড়ও। কিন্তু এত নিয়মকানুনের পরেও শহরজুড়ে সেই নিয়মভঙ্গের ছবি! পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্তাদের অবশ্য দাবি, সবটাই নজরে রাখা হচ্ছে। আপাতত কিছু বলা হচ্ছে না। যথা সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ