নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ডানকুনিতে জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি সোনার দোকানে দুঃসাহসিক ছিনতাই হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। ক্রেতা সেজে দোকানে ঢুকে দুষ্কৃতীরা দেদার লুটপাট চালিয়েছে। অভিযোগ, সেই সময় দোকানে থাকা ক্রেতারাও ছাড় পাননি। তাঁদের কাছ থেকেও টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে লুটপাট সেরে জাতীয় সড়ক ধরে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পরপরই এলাকায় গিয়েছিলেন চন্দননগর কমিশনাটের পদস্থ কর্তারা। হুগলির একাধিক থানা, বিশেষ করে জাতীয় সড়কের উপরে থাকা রাজ্যের একাধিক থানাকে অ্যালার্ট করা হয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিস কর্তারা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বেশ কিছু সূত্র মিলেছে। পুলিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই জাতীয় সড়ক লাগোয়া ওই সোনার দোকানটি লুটের জন্য বাছাই করা হয়েছিল। জাতীয় সড়কের সুবিধা নিয়ে যাতে দ্রুত এলাকা ছাড়তে পারে দুষ্কৃতীরা। আগে থেকে রেকি করা হয়েছিল বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। ওই দোকান সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল। হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই কথা বলছিল তারা। মুখে মাস্ক ছিল না। লুটপাটের সময় দোকান মালিক বাধা দিতে গেলে এক দুষ্কৃতী বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় মেরে জখম করে। দোকানের কর্মী ও ক্রেতাদের একটি পৃথক ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ডানকুনিতে জাতীয় সড়কের পাশে একটি চারতলা ভবনের একতলায় সোনার দোকানটি রয়েছে। এদিন বিকেলের দিকে ক্রেতা সেজে এক দুষ্কৃতী ঢোকে। তার কিছুক্ষণ পরেই আসে আরও একজন। এভাবে একে একে চার দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে স্বমূর্তি ধরে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দ্রুত লুটপাট শুরু করে। এমনকী, দোকানের মালিকের হাত থেকেও সোনার আংটি খুলে নেয়। খুব দ্রুত কাজ শেষ করে তারা গা ঢাকা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি বাইক নিয়ে এসেছিল। ঘটনার পরপরই একাধিক বাইককে ওই দোকানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। নিজস্ব চিত্র