নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দুটি ঘরে ছিল এসি। ছিল ফ্রিজ ভর্তি খাবার ও মিষ্টিও। বাড়িতে ডাকাতির পর খাটে বসেই এসি চালিয়েই চলে খানাপিনা! এরপর বাড়ির আলমারি ও লকার ভেঙে ১২ লক্ষ টাকা ও সোনার গয়না লুট। তবে লুটপাট পর্ব সেরে ফেরার সময় এসির মেইন সুইচটা বন্ধ করতে ভোলেনি দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার ঘটনা জানাজানি হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে দমদম নাগেরবাজারের প্রাইভেট রোড এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে নাগেরবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিস।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বলে পরিচিত বিশ্বজিৎ পাল। প্রাইভেট রোডে তাঁর বাড়ির পাশেই রয়েছে আরও দুই ভাইয়ের বাড়ি। ২৭ এপ্রিল বিশ্বজিৎবাবু মুম্বইতে মেয়ের কাছে যান। বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল। সোমবার রাতে বিশ্বজিৎবাবুর শাশুড়ি সাধনা পাল আসেন জামাইয়ের বাড়িতে। বাড়ির মূল গেট খুলতেই কার্যত হতবাক তিনি। দেখেন গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড। ভিতরে থাকা দুটি আলমারি ভাঙা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন জিনিস। ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন, আলমারিতে থাকা সোনার গয়নার বাক্স, ব্যাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী উধাও। খাটের তলায় পড়ে মিষ্টির প্যাকেট। তাতে পিঁপড়ে ধরেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের সদস্যদের কথায়, দুষ্কতীরা দীর্ঘ সময় নিয়ে অপারেশন চালিয়েছে। অপারেশন শেষে সেখানে খাওয়া-দাওয়াও করেছে। গরমের মধ্যে চালিয়ে নিয়েছিল এসি। খাটে বসেই খাওয়া দাওয়া পর্ব মেটানো হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এই ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এ নিয়ে বিশ্বজিৎবাবুর দাদা মানস পাল বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ছিল আলমারির লকারে। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ গ্রাম সোনার গয়নাও চুরি হয়ে গিয়েছে। এসি চালিয়ে চোরেরা ফ্রিজ থেকে মিষ্টি ও খাবার বের করে খেয়েছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিস এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় যথেষ্টই প্রভাবশালী মানুষের বসবাস। তারপরেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, সোমবারে রাতে সোদপুরের জয়গোপাল রায়চৌধুরী রোডের প্রাচীন একটি কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিস। জানা গিয়েছে, পানিহাটি পুরসভার পাঁচনম্বর ওয়ার্ডের অধীন কালী মন্দিরটি প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরানো। ওই রাতে দুষ্কৃতীরা মূল গেট সহ আরও তিনটি দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। বিগ্রহের সোনা ও রুপোর গয়না, বাসনপত্র, ক্যাশ বাক্স ভেঙে লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র