সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতন ঘুরতে এবার আরও পরিকল্পনা করে আসতে পারবেন পর্যটকরা। পুজোর পর থেকেই বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী চত্বর ঘোরার জন্য চালু হতে চলেছে অগ্রিম ই-টিকিট ব্যবস্থা। অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কেটে হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য পর্যটকদের সামনে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালুর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সেই প্রকল্পের কাজের বরাত দিতে ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানান উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকরা আলাদা করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা, কলাভবনের আর্ট গ্যালারি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ি দেখার টিকিট কাটতে পারবেন। পাঁচটি বাড়ি হল উদয়ন, উদীচী, কোনার্ক, শ্যামলী ও পুনশ্চ। একসঙ্গে সবগুলি দেখার জন্য কম্বো টিকিটের ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়াও রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালায় রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি এবং নোবেল পদকের রেপ্লিকা। ফলে ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকদের জন্য গোটা সফরটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার কাউন্টার থেকে হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। পুজোর পর থেকে অনলাইনে অগ্রিম বুকিংয়ের সুযোগ মিলবে।লাইট অ্যান্ড সাউন্ড প্রকল্পটি অবশ্য এখন চালু হচ্ছে না। বিশ্বভারতীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা চালুর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।এই ব্যবস্থায় বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তথ্যচিত্র ও আলো-শব্দের মাধ্যমে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে। সেই কাজের জন্যই এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হেরিটেজ ওয়াকের সাধারণ পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু টিকিট ৩০০ টাকা। পড়ুয়াদের দল এলে মাথাপিছু ৫০ টাকা এবং একক পড়ুয়ার জন্য ১৫০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে মাথাপিছু টিকিট ১০০০ টাকা। এক একটি দলে সর্বাধিক ২৫ জন পর্যটক থাকতে পারবেন। এবার সেই ব্যবস্থাতেই যুক্ত হচ্ছে অগ্রিম ই-টিকিট। ফলে পুজোর মরশুমে শান্তিনিকেতনমুখী পর্যটকদের কাছে বিশ্বভারতী ভ্রমণের পরিকল্পনাও আরও সহজ হতে চলেছে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই অগ্রিম ই-টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।