নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় বাজি বাজার শুরু হয়ে গিয়েছে। কালিকাপুর, শহিদ মিনার, বেহালা ও টালা পার্কে ক্রেতারা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। নানা ধরনের বাজির পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সে বাজির বাহারি সব নাম। মোড়ক আর নাম দেখে এগিয়ে যাচ্ছে আট থেকে আশি। এবার দাম বেড়েছে বাজির। তা সত্ত্বেও কেনা চলছে। টালাতে বাজার কাঁপাচ্ছে পমপম, যুদ্ধ ট্যাঙ্ক আর রাবণ বধ। তারাবাজি, চড়কির মতো চেনা বাজি যেমন রয়েছে তার সঙ্গে হালফিলের শেল, শট, ড্রোন বাজিও আছে।
ছোট একটা প্যাকেট। বেশ রংচঙে। সেটির কাছে গিয়েই এক গাল হাসি বাগুইআটির তনিমার। খুদেটি এসেছে মায়ের সঙ্গে। দোকানে এসেই ওই প্যাকেটে আঙুল দেখিয়ে আবদার, ‘ওই পমপম কিনে দাও!’ পমপম জিনিসটি কিরকম? দোকানাদর জানালেন, ছোট ছোট চুটপুট বম্ব। আওয়াজ খুব কম। আর ওটাই আনন্দের কারণ। দাম কত? সাড়ে পাঁচশ টাকা। দাম শুনে মা ব্যাকফুটে। চলে যেতে চাইছেন। কিন্তু মেয়ে কিছুতেই যাবে না। এরই মধ্যে চোখ গেল ‘হাইহাই’এর দিকে। সেটি আবার কি? তিনটি ছোট ছোট গাড়ি। দাম তিনশ’র মতো। গাড়ি কিন্তু চলবে না। তুবড়ির মতো জ্বলবে। এ তো গেল শিশুদের কথা। যারা একটু বড় হয়ে গিয়েছে, ওদের পছন্দ আবার ‘ভারত ট্যাঙ্ক’। দোকানদার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের পর এটাই এখন চলছে।’ কেমন ভাবে ফাটবে? দোকানদারের কথায়, ‘আগুন দিলে ট্যাঙ্কের নল থেকে আলো বের হতে শুরু করবে। একেবারে যুদ্ধর দৃশ্য।’ দাম? দু’টি ট্যাঙ্কের দাম ৮০০ টাকা। যদিও এই দাম দেখেই অনেকে হাঁটা শুরু করছেন। শঙ্কর দাঁ নামের এক বাজি বিক্রেতা বললেন, ‘আসলে এ বছর তো খুব বৃষ্টি হল। তাই বাজি ঠিকমতো শুকোয়নি। বাজারে প্রয়োজনের অনুপাতে কম এসেছে। ফলে দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বেড়েছে। এমনিতে প্রতিবছরই দাম বাড়ে। তবে এবছর একটু বেশিই বেড়েছে।’
এইসব হালফিলের বাজি কেনার সঙ্গে এক প্যাকেট রং মশাল কিংবা তারাবাজি কিনতেও ভুলছে না মানুষ। চলার পথে ‘বারণ বধ’ দেখেও থমকে যাচ্ছেন অনেকে। সেটা কী? বাজি ফাটালে কি রাবণের মতো দশটা মাথা দেখা যাবে? এসব প্রশ্ন শুনে বিক্রেতাদের উত্তর, ‘সেরকম কী হয় দাদা?’ বলে তাঁরা জানালেন, ‘আগুন দিলেই আকাশে দশটি তারার মতো আলো ফুটবে। হালকা আওয়াজ হবে। ওটাই রাবণ বধ।’ ওই একটি বাজির জন্য গুনতে হবে সাড়ে পাঁচশ টাকা। বাজির মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল মানুষ আর কি বা করতে পারে। এক ক্রেতার কথায়, ‘কম কিনছি। কিন্তু বছরে তো একবার। ফাটাতে তো ভালোই লাগে।’