সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: কোভিডের আগে মেমু প্যাসেঞ্জার হিসাবে ৬৮০৬১ (আদ্রা-আসানসোল) ট্রেনটি চলাচল করত। কোভিডের পর ওই ট্রেনটিই স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চালানো হতো। ফলে ওই ট্রেনটি রঘুনাথপুর মহকুমার বেশ কয়েকটি স্টেশনে দাঁড়াত না। দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওই ট্রেনটি আবার মেমু প্যাসেঞ্জার হিসেবেই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ট্রেনটি মুড়াডি স্টেশন ছাড়া আগের মতোই মহকুমার সমস্ত স্টেশনে স্টপেজ দেবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি নোটিফিকেশন এসে পৌঁছেছে। মহকুমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুড়াডি স্টেশনে স্টপেজ না থাকায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে এলাকার বাসিন্দারা আগামী দিনে আদ্রায় ডিআরএম অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়ার ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, রেল চলাচল ও স্টপেজের বিষয়টি ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বিষয়টি সদর দপ্তর থেকে ঠিক করা হয়। তবে মুরাডি স্টেশনের স্টপেজের বিষয়টি অবশ্যই আমারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আদ্রা-আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনটি আদ্রা থেকে ভোর ৩টেয় আসানসোল উদ্দেশে রওনা দেয়। কোভিডের আগে এলাকার মানুষের কলকাতা যাতায়াতের জন্য এই ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনটি আসানসোলে পৌঁছে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বিধান এক্সপ্রেস ধরা যেত। শুধু তাই নয়, ট্রেনটির উপর নির্ভর করে এলাকার সবজি বিক্রেতা, দিনমজুররা আসানসোল, বার্নপুর এলাকায় যেতেন। ট্রেনটি আদ্রা থেকে ছেড়ে জয়চণ্ডী, বেড়ো, রামকানালি, মুরাডি, মধুকুণ্ডা সহ মোট সাতটি স্টেশনে স্টপেজ দিত। কোভিডের পর ট্রেনটি স্পেশাল মেমু হিসেবে চলাচল করছিল। তখন থেকে ট্রেনটি আদ্রার পর রঘুনাথপুর মহকুমার পাঁচটি স্টেশনে স্টপেজ না দিয়ে সোজা বার্নপুরে স্টপেজ দেয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটির আগের মতোই সমস্ত স্টেশনে স্টপেজ দিলেও মুরাডি স্টেশনে দাঁড়াবে না। অথচ এই মুরাডি স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানের রামচন্দ্রপুরে একটি নামী চক্ষু হাসপাতাল রয়েছে। আছে বড়ন্তি পর্যটন কেন্দ্র। ফলে দূরদূরান্তের প্রচুর মানুষ এই স্টেশনে নামেন। গুরুত্ব থাকলেও হঠাৎ কেন স্টেশনটির স্টপেজ তুলে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জন গোস্বামী, জিতেন মণ্ডল বলেন, আগে স্টপেজ থাকলেও বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে ট্রেনটি মুরাডির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের দাঁড়াবে না। রেলের এই সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানাই। আমরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামব।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, গত বছর রেলের বৈঠকে ন’জন সাংসদ উপস্থিত ছিলাম। সেখানে ট্রেনটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু, মুরাডির মতো স্টেশনের স্টপেজ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দেব। রঘুনাথপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি বলেন, ট্রেনটি পরিষেবা চালুর জন্য একাধিকবার সোচ্চার হয়েছি। ট্রেনটির যখন চালু হচ্ছে তখন মুরাডি স্টেশনে অবশ্যই স্টপেজ দেবে।